নিখোঁজ প্রবাসীর সন্ধান পেতে সন্তানদের নিয়ে থানায় স্ত্রী
কুমিল্লার তিতাস থানায় প্রবাসী শামসুর রহমানের স্ত্রী-সন্তান -সমকাল
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৭:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
স্বপ্ন পূরণে আট মাস আগে দালালের মাধ্যমে বিদেশে পাড়ি জমান শামসুর রহমান। কিন্তু সৌদি আরব পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় তাঁর দুর্ভোগ। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে তাঁকে নির্যাতন করে এবং আটকে রেখে কাজ করানো হয়। ধীরে ধীরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুই মাস ধরে তাঁর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্ত্রী-সন্তানদের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর আয়েই চলত পুরো সংসার। মানবেতর জীবনযাপন করছে তাঁর পরিবার।
স্বামীর সন্ধান পেতে বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন শামসুর রহমানের স্ত্রী। গতকাল বুধবার ছোট ছোট পাঁচ সন্তান নিয়ে থানায় গিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য ভাটিবন্দ গ্রামের জাকির হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন নিখোঁজ প্রবাসীর স্ত্রী রোকসানা বেগম। প্রবাসী শামসুর রহমানের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামে।
জানা গেছে, নারান্দিয়া ইউনিয়নের ভাটিবন্দ গ্রামের জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত। নয়াকান্দি গ্রামের শামসুর রহমানকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ভিসা ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন জাকির হোসেন। প্রায় আট মাস আগে শামসুর রহমানকে বিদেশে পাঠানো হলেও সেখানে তাঁকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। লোকজন দিয়ে একাধিকবার তাঁকে মারধর করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
বর্তমানে শামসুর রহমানের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এতে পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। প্রতিদিনই সন্তানরা বাবার সঙ্গে কথা বলার আশায় অপেক্ষা করলেও কোনো খোঁজ না পেয়ে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
এই ঘটনায় গত ১৭ মে সকালে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে স্বামীর খোঁজখবর জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে রোকসানা বেগমকে গালাগাল করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন, জাকির হোসেন, তাঁর ভাই দিদার হোসেন, আমির হোসেন, ছেলে জুয়েল হোসেন ও ভাই মাসুম।
নিখোঁজ প্রবাসীর স্ত্রী রোকসানা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর প্রথম দিকে কয়েকবার কথা হয়েছে। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ নেই, মোবাইল নম্বর বন্ধ। তিনি শুনেছেন, তাঁকে কয়েক দফায় মারধর করে আটকে রাখা হয়েছে। ছোট ছোট সন্তান প্রতিদিন বাবার জন্য কাঁদে।
নিখোঁজ শামসুর রহমানকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর ভাই বাদল মিয়া। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাসুরা বেগম জানান, শামসুর রহমানের পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাঁর সন্তানরা বাবার সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় দিন গুনছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাকির হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন তারা। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- প্রবাসী
