বৃষ্টিপাত ও ঢলের পানিতে ডুবে গেছে ফসলি মাঠ
ছবি: সমকাল
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ২৩:২৪ | আপডেট: ২১ মে ২০২৬ | ২৩:৩৪
ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের পানিতে শেরপুরের কয়েকটি পাহাড়ি নদীর পানি বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি এলাকার ধান ও সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শেরপুর সদরে ১৩ দশমিক ৫০ মিলিমিটার, ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ীতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এ ছাড়া মেঘালয় রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে ঢলের পানি নেমে আসে ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি নদীতে। ফলে সোমেস্বরী মহারশি, ভোগাই ও চেল্লাখালি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্লাবিত হয় নিম্নাঞ্চল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে চেল্লানদীর পানি বাতকুচি পয়েন্ট বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছিল। একই সময়ে মহারশি ও সোমেস্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদীর পানি ২০ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার, একই সময়ে শ্রীবরদীর সোমেস্বরী নদীর পানি ২৩ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ঢেউফা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই দিন সকালে ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়নের কারাগাঁও বটতলা মোড় থেকে আয়নাপুর, দুপুরিয়া, মাদারপুর সড়ক পানিতে থইথই করছিল। সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়ে। এতে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ডুবে যায় ফসলি মাঠ।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে বৃহস্পতিবার সকালে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে ধানের ক্ষেত তলিয়ে যায়। তবে দুপুরে বৃষ্টি কমে গেলে পানি নেমে যায়। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বৃষ্টি না হলে ধানের ক্ষতি হবে না। তিনি স্থানীয় কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান।
একই দিন সকালে ঝিনাইগাতী বাজারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মহারশী নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় দিঘিরপাড় নদীপারের কয়েকটি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, গত দুই বছরে পর পর উজানের ঢলে ওই এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বসতবাড়ি, মুরগি ও মৎস্য খামার নদীতে বিলীন হয়।
ঝিনাইগাতী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন বলেন, বুধবার রাতে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঢলের পানিতে মহারশি নদীতে প্রবল স্রোত সৃষ্টি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে বৃষ্টি কমে আবহাওয়া কিছুটা ভালো হলে পানির বেগ কমে আসে। তবে সন্ধ্যার দিকে ফের পানি বেড়ে যায়। তিনি জানান, এই এলাকার মানুষের দাবি– মহারশি নদীতে একটি স্থায়ী উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা। সরকার এলাকাবাসীর দাবি আমলে নিয়ে একটি নতুন বাঁধ নির্মাণ করবে বলে আশা তাঁর।
