ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা’

‘প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা’
×

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৮:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ঈদুল আজহায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি সভা করেছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন। সেখানে প্রশাসনের প্রতি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন রাজবাড়ী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মাহমুদুল হাসান জুয়েল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এই সভাটি। 
মাহমুদুল হাসান জুয়েল প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের পরিবহন সেক্টরের কেউ যদি কোনো ভুল বা অনিয়ম করে আমাদের বলবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রশাসন যদি সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেয়, তাহলে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এটি কারও জন্যই ভালো হবে না।’

পরিবহন খাতের এই নেতা আরও বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনালে প্রতিটি বাস থেকে ডিপারসার (চাঁদা) বাবদ যে টাকা নেওয়া হয়, তা শ্রমিকদের কল্যাণে খরচ করা হয়। এ ছাড়া দুই ঈদে আদায় করা টাকা দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হয় ও সামাজিক কাজে খরচ হয়।’

তিনি দাবি করেন, এই টাকা কোনো যাত্রীর কাছ থেকে নেওয়া হয় না, বাস মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বাস মালিকের কোনো প্রকার অভিযোগ নেই। তাই এ বিষয়ে প্রশাসন বা কোনো সাংবাদিকের কিছু বলার নেই। কোনো সাংবাদিক ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে কোনো প্রকার সংবাদ পরিবেশন করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। 
তাঁর বক্তব্যের জের ধরে রাজবাড়ী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মোল্লা অভিযোগ করেন, দৌলতদিয়া ঘাটে শতাধিক সাংবাদিক ভুল তথ্য দিয়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করেন। এ বিষয়ে নজর দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সভায় অংশ নেওয়া সাংবাদিক নেতারা পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ সময় গোয়ালন্দ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতি ঈদে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে এই ডিপারসারের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। অথচ কেউ কেউ এটির পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। ঈদে যাত্রী পরিবহন করা বেশির ভাগ বাসেরই ফিটনেস থাকে না। তাঁর অভিযোগ, গত ঈদে বাসডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ বাসের কারণেই ২৬টি প্রাণ ঝরেছে। কোন সাংবাদিক মিথ্যা সংবাদ করেছেন–তিনি তথ্য-প্রমাণ দাবি করেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ সভায় বলেন, ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকায় নানাভাবে অবৈধ উপায়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। যেটি কারোরই কাম্য নয়। তাঁর মন্তব্য, বাস মালিক সংগঠনের নামে কথিত ডিপারসারবাবদ প্রতি যানবাহন থেকে ৭০০, ১০০০ এমনকি দেড় হাজার টাকাও আদায় করা হয়। এটি বন্ধ হওয়া দরকার।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, কে কীভাবে কী বললেন, সেভাবে তো আর প্রশাসন চলবে না। প্রশাসন তাঁর নিজস্ব গতিতে, আইন অনুযায়ী কাজ করবে। আগামী ঈদে কোরবানির গরু পরিবহন, ঘরমুখো মানুষ ও ঈদ শেষে কর্মস্থলগামী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে তারা সার্বক্ষণিক কাজ করবেন। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন।
ইউএনও সাথী দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×