ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আমিরাত থেকে এলো এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল 

আমিরাত থেকে এলো এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল 
×

চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজ (ফাইল ফটো)

চট্টগ্রাম ব্যুরো 

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ১৭:২৩ | আপডেট: ২২ মে ২০২৬ | ১৭:২৫

আরও এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) দেশে পৌঁছেছে। আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে এই তেল নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। জাহাজটি থেকে লাইটারেজের মাধ্যমে তেল খালাসের প্রক্রিয়া চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর এটি বাংলাদেশে ক্রুড অয়েলের দ্বিতীয় চালান। 

এর আগে এক লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামে একটি জাহাজ। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘এমটি নিনেমিয়া’। ৬ মে দুপুরে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর পৌঁছে। আর আজ ভোরে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে ‘এমটি ফসিল’। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ক্রুড অয়েল পরিবহনে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, জাহাজ থেকে লাইটারেজের মাধ্যমে (ছোট জাহাজ করে) ক্রুড অয়েল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারি চালু রাখা সম্ভব হবে। এতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। 

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ১২ এপ্রিল রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধন কারখানা ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজে করে ক্রুড অয়েল আসার পর রিফাইনারিটি পুনরায় চালু করা হয়। 

যুদ্ধের কারণে নিয়মিত জ্বালানি তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় দেশে তেলের সংকট দেখা দিয়েছিল। তবে বিপিসি তুলনামূলক বেশি দামে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে জাহাজে করে লাখ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল, অকটেন নিয়ে আসে। তাতে তেলের সংকট কেটে যায়।

ক্রুড অয়েলই ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল) সচল রাখার প্রধান কাঁচামাল। এটি পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করে এই রিফাইনারি। তবে যুদ্ধ শুরুর দুই মাসের মধ্যে ক্রুড অয়েলের কোনো জাহাজ আসেনি দেশে। সর্বশেষ আড়াই মাস আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েলের জাহাজ নোঙর করেছিল চট্টগ্রামে।

কাঁচামাল পর্যাপ্ত না থাকায় দেড় মাস ধরে ইআরএলে ব্যবহার করা হচ্ছিল পাইপলাইনে জমে থাকা ‘ডেডস্টক’। এ সময় উৎপাদন কমিয়ে আনা হয় দুই-তৃতীয়াংশে। ১৩ থেকে দুইয়ে নামিয়ে আনা হয় জ্বালানির ধরনও। এভাবে পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার প্রহর গোনা ইআরএল অবশেষে ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ।
 

আরও পড়ুন

×