ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত গোয়াইনঘাট আশায় ব্যবসায়ীরা

ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত গোয়াইনঘাট আশায় ব্যবসায়ীরা
×

ঈদ সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে গোয়াইনঘাট। বৃষ্টিও যেন তার ছটায় নতুন করে সাজিয়েছে প্রাণ প্রকৃতি। বুধবার জাফলং জিরো পয়েন্টে সমকাল

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৭:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো। পাহাড়, নদী, ঝরনা আর পাথরের সৌন্দর্যে বছরজুড়েই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে এই জনপদ।
গত কয়েক সপ্তাহে যেন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে জাফলংসহ গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। পর্যটকের খরায় অনেকটা নীরব ও নিস্তব্ধ হয়ে আছে এখানকার পর্যটনশিল্প।
বৃষ্টি মানেই গোয়াইনঘাটের পাথুরে নদীর কোলঘেঁষা এলাকায় পর্যটকদের জন্য সাজে প্রকৃতির পসরা। অথচ এবার প্রত্যাশিত পর্যটক না আসায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, নৌকা, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই দিন পার করছেন হতাশার মধ্যে। তাদের আশা ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বদলাবে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে জ্বালানি তেলের সংকট এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলমান থাকায় ভ্রমণ অনেকটাই কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে।

জাফলং এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সাধারণ সময়ের তুলনায় পর্যটক উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যার কারণে ছুটির দিনগুলোতেও পর্যটনকেন্দ্রে দেখা মেলেনি তেমন। ফলে দোকানপাট, খাবার হোটেল ও পর্যটকনির্ভর ব্যবসাগুলোতে আয় কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। তবে, কোরবানির ঈদ ঘিরে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নামবে গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে।
এই উপজেলার জাফলংয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা। ঈদে তেমন হলে দীর্ঘদিনের পর্যটক খরা কাটিয়ে চাঙা হবে পর্যটন খাত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারের ঈদ মৌসুমে পর্যটকে ভরপুর থাকবে এই এলাকা। প্রতিবছর ঈদের সময় দেশের নানা অঞ্চল থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন জাফলংয়ে। এখানে দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল, জল পাথরের বিছানাখ্যাত বিছনাকান্দি, সৌন্দর্যমণ্ডিত গ্রাম পান্তুমাই এবং জাফলংয়ের মায়াবি ঝর্ণাসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে আসেন তারা। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে তারাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে গোয়াইনঘাটের পাহাড়, ঝরনা ও নদীগুলো যেন নতুন সাজে সেজেছে। সবুজে মোড়ানো পাহাড় আর প্রবহমান ঝরনার সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাওয়ায় পর্যটকদের মনকে আরও প্রশান্তিতে ভরে তুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইতিবাচক দিক হচ্ছে, এরই মধ্যে ঈদকে ঘিরে এখানকার প্রায় ৮৫ ভাগ আবাসিক হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে; যার পরিপ্রেক্ষিতে আশা জেগেছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মনে।
জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. হোসেন মিয়া বলেন, গেল ঈদের পর থেকেই জাফলং প্রায় পর্যটকশূন্য। এতে ব্যবসায়ীরা ছিলেন নানাভাবে আর্থিক সংকটে। এবারের ঈদে বিপুল পর্যটক এলে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আবারও ঘুরে দাঁড়াবেন ব্যবসায়ীরা। সে লক্ষ্যে দোকানিরা নতুন নতুন পণ্য দিয়ে দোকান সাজিয়েছেন। হোটেল বুকিংয়ে সেই আশা পূরণের ইঙ্গিত মিলছে।
জাফলং বিজিবি ক্যাম্প পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আহ্বায়ক ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যটকের খরা থাকায় এক প্রকার নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন পর্যটনশিল্পে জড়িতরা। যদি এই ঈদে ভালো ব্যবসা হয়, তাহলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তা ছাড়াও এখানকার হোটেল, রিসোর্ট থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবসায়ী আগাম বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।­

আরও পড়ুন

×