রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যুক্ত হলো উন্নত ‘স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট’ সিস্টেম
ছবি: সমকাল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ও পাবনা অফিস
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ | ১৯:৫৭ | আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ | ২১:০৯
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) নামে অত্যাধুনিক একটি ডিজিটাল প্রযুক্তি সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে এই প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়। রাশিয়া প্রথমবারের মতো নিজ দেশের বাইরে এ ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করলো।
রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোলসিস্টেমস বর্তমানে কমিশনিংয়ের অধীনে থাকা ইউনিট ১-এর ইন্সট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমে সফলভাবে যুক্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ওআইএসএস মূলত প্ল্যান্ট অপারেটরদের জন্য একটি ‘স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে কাজ করবে। এটি হাজার হাজার অপারেশনাল প্যারামিটার রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। পাশাপাশি তথ্যের ভিজ্যুয়ালাইজেশন উন্নত করা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা এবং পরিচালন দক্ষতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।
ওআইএসএস-এর সিইও আন্দ্রেই বুটকো বলেন, ‘অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেমটি কর্মীদেরকে রিয়েল টাইমে পাওয়ার ইউনিটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তথ্য প্রক্রিয়াকরণকে অপ্টিমাইজ করে এবং অপারেটরের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার মাধ্যমে, এই সিস্টেম টি পরিচালনগত দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। রূপপুর এনপিপি-তে এর বাস্তবায়ন বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক শক্তি প্রকল্পগুলিতে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রবর্তনের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, ‘রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জন্য যুগান্তকারী উদ্যোগ। আধুনিক রিয়্যাক্টর প্রযুক্তির পাশাপাশি ওআইএসএস-এর মতো ডিজিটাল সমাধান প্ল্যান্ট পরিচালনায় দক্ষতা ও নিরাপত্তা আরও বাড়াবে। এই সিস্টেমটি কেবল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদিত কর্মীদের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে।’
ওআইএসএস সর্বপ্রথম রাশিয়ার নোভোভোরোনেঝ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং দেশটির অন্যতম উন্নত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুর্স্ক এনপিপি-২ এ এটি ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার নকশাকৃত দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর রয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। তৃতীয় প্রজন্মের এই প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান পূরণ করে এবং রাশিয়া ও বেলারুশে ইতোমধ্যে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। একই ধরনের প্রকল্প বর্তমানে মিশর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক, চীন ও কাজাখস্তানেও বাস্তবায়ন করছে রোসাটম। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল রিয়্যাক্টরে জ্বালানি লোডিং শুরু হয় এবং ১২ মে রিয়্যাক্টর কোরে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়।
রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক এবং এটমস্ট্রয়েক্সপোর্ট-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি বলেন, ‘প্রাথমিক কোর লোডিংসহ সব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে।’
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা রয়েছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর সমন্বয়ে গঠিত এ কেন্দ্রের দুই ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের মোট চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করবে।
- বিষয় :
- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
