ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হাটহাজারীতে ইউপি চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ঘোষণা

হাটহাজারীতে ইউপি চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ঘোষণা
×

আবুল মনছুর। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ১৮:৫৪

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ২নং ধলই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল মনছুরের বিরুদ্ধে একই ইউনিয়ন পরিষদের ১০ সদস্যের আনীত অনাস্থা এবং ৬টি অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। 

বুধবার উপসচিব জিয়াউর রহমানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এসব বিষয় জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ কয়েকটি দপ্তরে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। অনুলিপির কপি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসে এসে পৌঁছেছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান আবুল মনছুরের বিরুদ্ধে পরিষদের সদস্যগণ কর্তৃক অনাস্থা প্রস্তাবের সাথে আনীত অভিযোগ গঠিত কমিটির তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ১০ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট প্রদান করায় চেয়ারম্যান কর্তৃক জনস্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করা সমীচীন হবে না। এসব বিষয় বিবেচিত হওয়ায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের প্রেরিত অনাস্থা প্রস্তাবটি সরকার কর্তৃক স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৯ (১৩) ধারা অনুযায়ী অনুমোদিত হয়েছে। প্রস্তাবটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ায় চেয়ারম্যান আবুল মনছুরের পদটি আইনের ৩৫ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী শূন্য ঘোষণা করা হলো। 

অবিলম্বে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ঘোষণা সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, ‘চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য ঘোষণা করে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের কপি হাতে পেয়েছি। ২নং ধলই ইউনিয়ন পরিষদের ১০ সদস্যের অনাস্থা ও নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিষদের প্রথম সভায় পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সদস্যদের মতামত ও ভোটগ্রহণ পদ্ধতি অনুসরণ না করেই চেয়ারম্যান প্যানেল গঠন করা, মতামত প্রদানের সুযোগ না দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সদস্যদের জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ, নিজ অফিস কক্ষে নারী নিয়ে একান্ত সময় কাটানো, বিধিবহির্ভূতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের লোকজন নিয়োগ, চেয়ারম্যানের ইচ্ছানুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ ও পছন্দের লোকদের মাঝে বরাদ্দ বণ্টন, জনসাধারণের কাছ থেকে গ্রহণ করা টাকা পরিষদের অ্যাকাউন্টে জমা না করে আত্মসাৎ করাসহ নানা অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।  

আরও পড়ুন

×