নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ
মেঝে খুঁড়ে মিলল মায়ের লাশ, ছেলে পলাতক
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৯:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগম নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মারুফা বেগম ওই গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী।
ঘটনার পর থেকে নিহতের বড় ছেলে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ বড় ছেলের স্ত্রী ও সন্তানকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরে ছেড়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মারুফা বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট ছেলে লাভিন মিয়া পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। তিনি বড় ছেলে জুয়েল মিয়ার সঙ্গে গ্রামে থাকতেন। গত সোমবার থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। জুয়েল মিয়াকেও দেখা যাচ্ছিল না বাড়িতে। লাভিন মিয়ার স্ত্রী বুধবার সকালে বিছানা গোছাতে গিয়ে রক্ত ও ঘরের মেঝেতে ফাটল দেখতে পেয়ে স্বামীকে জানান। লাভিন মিয়া থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।
ছোট ছেলে লাভিন মিয়া বলেন, তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরেন। ঈদের পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর শ্বশুরবাড়ি যান। বুধবার সকালে সেখান থেকে ফিরে মাকে দেখতে না পেয়ে বড় ভাইয়ের কাছে ফোনে মায়ের কথা জানতে চান। বড় ভাই মা কোথায় আছেন তা জানেন না বলে জানান। কিছুক্ষণ পর বড় ভাইয়ের শোয়ার ঘরের মেঝেতে ফাটল এবং বিছানায় রক্তের দাগ দেখতে পান তাঁর স্ত্রী। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেঝে খুঁড়ে তাঁর মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
মারুফা বেগমের নাতনি (মেয়ের মেয়ে) লাবনী আক্তারের ভাষ্য, তার মামা জুয়েল মিয়া জুয়া ও মাদকাসক্ত। এ নিয়ে প্রায়ই তার নানির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হতো। মামা দুদিন পর পর মাদক কেনার জন্য তার নানির কাছে টাকা চাইতেন। না দিলেই অশান্তি করতেন।
প্রতিবেশী বিধান চন্দ্র রায় বলেন, কয়েক দিন আগেও জুয়েল ও তাঁর স্ত্রী মারুফা বেগমকে অনেক বকাঝকা করেছেন। এমনকি, গায়ে হাতও তুলেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই জুয়েল মিয়া ও তাঁর পরিবারের কাউকে গ্রামবাসী দেখতে পায়নি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান সমকালকে বলেন, গত বুধবার বিকেলে নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া থানায় এসে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘরের ভেতর রক্ত ও মেঝেতে ফাটল দেখে সন্দেহ হলে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াকে আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
- বিষয় :
- লাশ উদ্ধার
