রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
২৫ দিন ধরে পানি নেই, ভোগান্তিতে রোগী-স্বজন
গভীর নলকূপ স্থাপনে অনুমোদন মিললেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় থমকে রয়েছে কাজ
সংগৃহীত
রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ২০:৩২
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গভীর নলকূপ বিকল হয়ে যাওয়ায় টানা ২৫ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নতুন নলকূপ স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ মিললেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অর্থ সংকটের কারণে কাজ শুরু হয়নি। ফলে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠাকালে স্থাপিত গভীর নলকূপ থেকে হাসপাতালের পানি সরবরাহ করা হতো। সম্প্রতি নলকূপের প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে থাকা পাইপ ও হাউজিংয়ে ত্রুটি দেখা দিলে গত ১১ মে থেকে পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।’
পানি সংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিভিল সার্জনের উদ্যোগে নতুন একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করে। নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেইন্যান্স) বাজেট থেকে কাজটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় কাজটি শুরু করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে পুকুর থেকে মোটরের মাধ্যমে পানি তুলে কোনোভাবে শৌচাগারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। এতে হাসপাতালে ভর্তি রোগী, তাদের স্বজন, বহির্বিভাগের সেবাগ্রহীতা ও হাসপাতাল কোয়ার্টারে বসবাসরত চিকিৎসক-নার্সসহ ৯টি পরিবার ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ৮৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। শৌচাগারে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় রোগীর স্বজনের দূরের খাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত দেড় বছর বয়সী শিশু শফিউল্লাহকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কানুদাসকাঠি গ্রামের নাসরিন আক্তার বলেন, ‘সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছি। পানি না থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে। বাইরে থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় হাসপাতালে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
রোগীর স্বজন কবির হোসেন বলেন, ‘গোসল, শৌচাগার ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা যাচ্ছে না। এতে রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।’
গালুয়া গ্রামের ফরিদা বেগম বলেন, ‘অনেক দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। পানি না থাকায় গোসল করতে পারছি না। খাল থেকে পানি এনে শৌচাগারে যেতে হচ্ছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল খায়ের রাসেল বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। পানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও ব্যাহত হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, ‘বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
r
