ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ফিরতি যাত্রায় ভোগান্তি, দীর্ঘ যানজট
ছবি: সমকাল
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ২০:২৪ | আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ | ২০:২৬
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে ঢাকা–রংপুর মহাসড়কে। শুক্রবার সকাল থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানজট ও ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বিশেষ করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক)-২ প্রকল্পের অধীনে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় চারলেন সড়ক প্রশস্তকরণ ও ওভারপাস নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এ কারণে ওই এলাকায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচল এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণেও কৃত্রিম যানজট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রংপুর থেকে সিরাজগঞ্জগামী জেনিন পরিবহনের সুপারভাইজার মেজবাহুল আলম হিরা জানান, সকাল পর্যন্ত সড়কে তেমন কোনো সমস্যা ছিল না। তবে বিকেলের দিকে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করলে কয়েকটি স্থানে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় প্রায় ২০ মিনিট আটকে থাকতে হয়। মাত্র ৩০০ মিটার পথ অতিক্রম করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়। একইভাবে মোকামতলা এলাকাতেও থেমে থেমে যান চলাচল করেছে।
ঈদ-পরবর্তী সময়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেক স্থানে বাসগুলো নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলতে দেখা গেছে। পর্যাপ্ত বাসে আসন না পেয়ে অনেক যাত্রীকে পণ্যবাহী ট্রাকেও যাত্রা করতে দেখা যায়।
এদিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার ভোর থেকে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কের ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর থেকে কামারখন্দ উপজেলার কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার সূত্রধর জানান, সকালে সেতুর পশ্চিম টোলপ্লাজা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাময়িকভাবে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেন বন্ধ রেখে উভয় লেন ব্যবহার করে ঢাকামুখী যানবাহন পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটি শেষে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ একযোগে কর্মস্থলে ফিরছেন। এর মধ্যেই ভোরে যমুনা সেতুর ওপর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে একটি বাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাকের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো বিকল হয়ে একটি লেন বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে কয়েকটি দূরপাল্লার বাসও বিকল হয়ে পড়ে। ফলে উভয় দিকেই যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, হাটিকুমরুল মোড় এলাকায় বড় কোনো সমস্যা না থাকলেও যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে সকালে থেমে থেমে যানবাহনের ধীরগতির খবর পাওয়া গেছে।
সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক মোফাখখারুল খায়রুল ইসলাম বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ফিটনেসবিহীন ও জরাজীর্ণ বাসের সংখ্যা বেড়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীবাহী যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সাসেক-২ প্রকল্পের পরিচালক ড. ওয়ালীউর রহমান বলেন, গোবিন্দগঞ্জ ওভারপাসের নির্মাণকাজ চললেও যান চলাচলের জন্য দুটি লেন খোলা রয়েছে। কিন্তু ওভারপাসের নিচে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও স্থানীয় বাসগুলো যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় কৃত্রিম যানজট তৈরি হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ অংশের নির্মাণকাজ শেষ হলে এ সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবুতোরাব মো. শামসুর রহমান বলেন, চলমান অবকাঠামো নির্মাণকাজের কারণে সাময়িকভাবে এ ধরনের ভোগান্তি তৈরি হলেও যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ঘোড়াঘাট থেকে ঢাকাগামী যাত্রী মিজনু বেগম জানান, নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা পর বাস ছাড়ে। এরপর গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। এতে যাত্রাপথে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রার এই চাপ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা, মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এমন ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা যাত্রীদের।
