পল্টনে রক্তাক্ত সেই মাহবুব যুবদলের কমিটিতে
সংগৃহীত
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ২০:৪২
রাজধানীর পল্টন এলাকায় ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর সরকার পতনের এক দফা দাবিতে জনসভা করে বিএনপি। জনসভাস্থলে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে রক্তাক্ত এক যুবদল নেতাকে দেখা যায় নিজের সঙ্গীয় নেতাকর্মীদের রক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়াতে। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে কিছুক্ষণ পড়েই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
সংঘাতপূর্ণ রাজপথের মাঝে একা দাঁড়িয়ে কর্মীদের রক্ষার চেষ্টাকারী ওই নেতার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সে সময় সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার প্রান্তিক জনপদ থেকে ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে উঠে আসা সেই নেতার নাম মাহবুবুর রহমান। দীর্ঘ সময় সেভাবে আলোচনায় না থাকলেও রাজপথে রক্ত ঝরানো সংগ্রামী ভূমিকা আর দলের প্রতি নিবেদিত থাকার পুরস্কার ঠিকই পেলেন তিনি। বৃহস্পতিবার যুবদলের নবগঠিত কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া নেতাকর্মীদের নামের তালিকা প্রকাশ হয়। এতে সহসাধারণ সম্পাদকের তালিকায় রয়েছে মাহবুবুর রহমানের নাম। এ তথ্য প্রকাশ পেতেই জামালগঞ্জ যুবদল ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে এই নেতাকে নিয়ে শুরু হয় আনন্দ উল্লাস।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন মাহবুব। পরে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান । শুধু তাই নয়, ওই আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর জন্য জামালগঞ্জে সবচেয়ে নিবেদিতভাবে প্রচার ও ভোট ব্যাংক ভারী করায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়ায় মাহবুব বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুবদলের একটি পদ মানে রণাঙ্গনে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া; যেখানে সবার আগে নিজেকে আত্মাহূতি দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই একজন নেতাকে দাঁড়াতে হয়। যতক্ষণ সামর্থ্য থাকবে এক হাতে লাল সবুজের পতাকা, আরেক হাতে শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন আঁকড়ে ধরে লড়ে যাব। বাংলাদেশের অতন্দ্রপ্রহরী হিসেবে যুবদলকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ এসেছে। প্রধানমন্ত্রী দেশ গড়বেন। আমরা সে কাজে সামনের সব প্রতিবন্ধকতা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব সে পথ সুগম করতে।
- বিষয় :
- সুনামগঞ্জ
