জমিতে পানি আটকে মাছ চাষ ভাঙছে পাড়, ঝুঁকিতে বাড়িঘর
গাজীপুরের বাদখুইরা বিলে মাছ চাষের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বসতভিটা ও মুরগির খামার সমকাল
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৭:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাদখুইরা বিল নামে পরিচিত নিচু জমিতে পানি আটকে মাছ চাষের ফলে আশপাশে ভাঙন দেখা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ভাঙনে ৮-১০ বিঘা জমি তলিয়ে গেছে। হুমকির কবলে পড়েছে বসতভিটা, সড়ক, মসজিদ ও গাছপালাসহ ফসলি জমি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এলাকাবাসী এসবের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসিফ জানান, প্রায় সাত বছর আগে সিংহশ্রী ইউনিয়নের বড়বেড় এলাকায় বাদখুইরা বিলের প্রায় ৫০ বিঘা জমি পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর উপজেলার বরমী এলাকার আবু সাহিদ নামের এক মাছচাষি এক বছরের জন্য লিজ নেন। প্রতি বিঘা বোরো ধানের জমির জন্য কৃষকদের ১৮ হাজার টাকা প্রদানের লিখিত চুক্তি করা হয়।
পাশাপাশি এই বিলের চারপাশের কান্দা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে স্থায়ীভাবে জাল পেতে রাখা এবং প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে কান্দা রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের আশ্বাস দেন ওই মাছচাষি। কিন্তু তিনি তাঁর কথা না রেখে এতদিন মাছ চাষ করে আসছেন।
এতে চারপাশের খলাদির টেক, বড়বেড় টেক, টেকপাড়া এলাকার প্রায় ৬০-৭০ জনের কৃষকের ৮-১০ বিঘা জমি বিলে তলিয়ে গেছে। আরও বেশ কয়েকজনের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, নানা ফল-ফসলের গাছ ও জমি বিলে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এমনকি মহল্লার মসজিদটির পশ্চিম পাশের জমি ভেঙে স্থাপনাটি হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষক মোসলেহউদ্দীন কাজী বলেন, গত কয়েক বছরে মাছ চাষের কারণে বিলের তীরবর্তী তাঁর প্রায় এক বিঘা জমি ভেঙে বিলে মিশে গেছে এবং সেখানকার ১৫-১৬টি তাল, আকাশমণি ও মেহগনি গাছ পড়ে গেছে।
সাবেক ইউপি সদস্য ও বর্তমান সিংহশ্রী ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি আমেনা খাতুন জানান, এই বিলের ভাঙনের ফলে তাঁর বসতভিটা বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং বাড়ির পাশের ৭-৮টি মেহগনি গাছ পড়ে গেছে।
কৃষক তাজউদ্দীন মৃধা বলেন, এই বিলের পাশে তিনকাঠা জমি কিনে তিনি বাড়ি করেছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে বিলের ভাঙনের ফলে তাঁর বসতভিটার প্রায় আধাকাঠা জমি তলিয়ে গেছে।
তাছাড়া প্রায় রাতে শতশত বস্তা মুরগির বিষ্ঠা ফেলার কারণে চতুর্পাশের মানুষ দুর্গন্ধে বসবাস করতে মারাত্মক অসুবিধায় পড়ছেন। এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র ইট বিছানো সড়কটিও বিলের মধ্যে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী হাদিকুল ইসলাম জানান, বিলের পাশে তিনি পৈত্রিক বসতভিটার সঙ্গে দুটি শেড তৈরি করে দুই হাজার মোরগ ও ৭-৮টি গরু লালনপালন করছেন। কিন্তু তাঁর দুটি শেডের পাশ থেকে প্রায় ১০-১২ ফুট জায়গা বিলের মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। এ বিষয়ে মাছচাষি আবু সাহিদের কাছে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো সহযোগিতা করেননি। তাই নিজ উদ্যোগে সাময়িকভাবে মাটি ফেলে তিনি বসতভিটা ও শেড দুটি রক্ষা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এর প্রতিকার চেয়েছেন তিনি। এলাকাবাসীর কাছ থেকে গণস্বাক্ষর নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় কৃষক তাজউদ্দিন মৃধাসহ উপস্থিত সব বাসিন্দারা দাবি করেন, এখন তারা মাছ চাষের জন্যে ওই বিলের জমি আর কাউকে লিজ দিতে চান না। বিষয়টি আবু সাহিদকে জানালে গত মৌসুমে তিনি টাকা পরিশোধের খাতার আড়ালে জমির লিজ নবায়নের কাগজে কৌশলে সব জমির মালিকের স্বাক্ষর নিয়ে নেন। তাই যে কোনো উপায়ে তাঁর কাছ থেকে বিলের লিজ বাতিলের দাবি জানান তারা।
যোগাযোগ করা হলে মাছচাষি আবু সাহিদ বলেন, আগামী শুকনো মৌসুমে বিলের পানি কমে এলে জনসাধারণের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন তিনি।
- বিষয় :
- মাছ
