ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

বিএনপি নেতার লাথিতে গর্ভপাতের অভিযোগ

বিএনপি নেতার লাথিতে গর্ভপাতের অভিযোগ
×

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি নেতা ফেরদৌস মিয়ার ছাগলের পাশে ঘুরছিল প্রতিবেশী জুয়েল মিয়ার একটি কুকুর। ছাগলকে কুকুরে আঁচড় দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে গালাগাল শুরু করেন। প্রতিবাদ করতে গেলে জুয়েলসহ তাঁর মা-বাবাকে মারধর করেন ফেরদৌস ও তাঁর লোকজন। এ সময় বাধা দিতে গেলে জুয়েলের বোন আশা আক্তারের পেটে লাথি দেয় এবং মারধর করে অভিযুক্তরা। এতে তাঁর গর্ভপাত হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের পালগাঁও গ্রামে গত বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আশা আক্তারের বাবা দিলখুশ মিয়া থানায় অভিযোগ দিলে বিএনপি নেতা ফেরদৌসকে আটক করে পুলিশ। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে তাঁকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
 পালগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ফেরদৌস মিয়া সুয়াইর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ভুক্তভোগী আশা আক্তার সুয়াইর গ্রামের সালমান শাহের স্ত্রী। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। গতকাল শুক্রবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুর রহমান হারুন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুয়াইর গ্রামের গৃহবধূ আশা আক্তার তাঁর বাবার বাড়ি পালগাঁও গ্রামে বেড়াতে গিয়েছেন। গত বুধবার দুপুরে তাঁর ভাই জুয়েল মিয়ার একটি কুকুর প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়ার ছাগলের পাশে ঘুরছিল। ছাগলকে কুকুরে আঁচড় দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে গালাগাল শুরু করেন ফেরদৌস মিয়া। প্রতিবাদ করতে গেলে প্রথমে জুয়েলকে মারধর করতে থাকে ফেরদৌস ও তাঁর লোকজন। পরে ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে যান তার বাবা দিলখুশ ও মা সালেমা আক্তার। এ সময় তাদেরও মারধর শুরু করে অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা আশা আক্তার এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করে এবং পেটে লাথি দেয়। মাটিতে পড়ে গিয়ে তাঁর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাঁকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষার পর জানান, রক্তক্ষরণে তাঁর গর্ভপাত হয়েছে। আশা আক্তার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিএনপি নেতা ফেরদৌস মিয়াসহ ৬ জনের নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন দিলখুশ মিয়া।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ফেরদৌস মিয়াকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পরই ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। বিষয়টির বিচার দলীয়ভাবে হবে বলে আশ্বাস দেন তারা।
আশার স্বামী সালমান শাহ জানান, রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পেটের বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযোগ দেওয়ার পর আসামি ফেরদৌস মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে স্থানীয় ও উপজেলা বিএনপির নেতারা অনুরোধ করে বলেন, তারা বিচার করবেন। তারপর আসামিকে ছেড়ে দিয়েছে। 
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শহীদুল্লাহ্‌ জানান, পরীক্ষায় ওই গৃহবধূর গর্ভপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি খাতায় লেখা আছে। ভুক্তভোগী নারী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিএনপি নেতা ফেরদৌস মিয়া বলেন, ‘ওই নারীর ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ওই নারী ঈদের আগে থেকে অসুস্থ। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে তাঁর পরিবারের লোকজন। এখন বলছে আমি নাকি তাঁকে লাথি মারছি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি মিথ্যা।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন জানান, ফেরদৌস ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেছে। ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ফেরদৌস হেনস্থার কথা অস্বীকার করেছেন।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলামের ভাষ্য, ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীকে আটকের পর থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগীসহ উপজেলা বিএনপির নেতারাও এসেছিলেন। তারা নিজেরা আপস করবেন, তাই নিয়ে গেছেন।’
 

আরও পড়ুন

×