যাদুকাটা-বারেকের টিলায় সাজানো পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী সবুজ বনে ঢাকা বারেকের টিলা সমকাল
আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
যাদুকাটা তাহিরপুরের সীমান্ত নদী। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে প্রবহমান এ নদীটি দেখতে পর্যটন স্পটের মতোই। একদিকে ভারত সীমান্তের উঁচু সবুজ পাহাড়, মাঝে ছোট ছোট টিলা আর নিচে শান্ত জলরাশি; যেন প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি।
যাদুকাটা নদী যেন যাদুর স্পর্শে মুখরিত করে অগণিত দর্শনার্থীকে। পর্যটনবিলাসী যে কোনো মানুষকে পুলকিত করবে শান্ত জলরাশিতে সবুজ পাহাড়ের ছায়া। এ নদী হাজারো বারকি শ্রমিকের কোলাহলে মুখর।
দেশব্যাপী পর্যটকদের কাছে বারেকের টিলাটি পরিচিতি লাভ করলেও স্থানীয়রা এ টিলাটিকে বড়গুপ টিলা বলে থাকে।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড় থেকে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের বারেকের টিলার পাশ দিয়ে প্রবহমান যাদুকাটা নদীর ধু-ধু বালি আর চকচকে স্বচ্ছ নীলাভ পানি; অন্যদিকে বারেকের টিলার সবুজ বনায়ন আদিবাসীদের জুম চাষ, তাদের আচার অনুষ্ঠান, পোশাক পরিচ্ছদ এক ভিন্ন সংস্কৃতির উপলব্ধি দেয়।
এই টিলার ওপর দাঁড়িয়ে যাদুকাটা নদীসহ ভারত আর বাংলাদেশকে একসঙ্গে নেওয়া যায় দৃষ্টিসীমায়। বারেকের টিলার উঁচু পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ আর রাস্তার দু’ধারে হরেক রকম গাছগাছালিতে গড়া সবুজের সমাহার। নিচ থেকে ওপরে দিকে উঠতে গেলে যে কোনো পর্যটকের মনে হবে যেন একটি সুউচ্চ টাওয়ার। যাদুকাটা ও বারেকের টিলার নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি তাহিরপুরে আরও দর্শনীয় স্থান হলো হজরত শাহজালাল (রহ.) এর সফর সঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হজরত শাহ আরেফিনের আস্তানা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান পনাতীর্থ এবং শ্রী শ্রী অদ্বৈত প্রভুর মন্দির, পশ্চিম তীরে ইস্কন মন্দির ও গরমপীরের মাজার।
এ ছাড়াও রয়েছে ব্রাহ্মণগাঁওয়ে হাবেলী দুর্গ, বড়ছড়া শুল্ক স্টেশন, ট্যাকের ঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্প। আরও রয়েছে রামসার অন্তর্ভুক্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের বিশাল জলরাশি আর সবুজ সমারোহে দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষরাজি। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তাহিরপুরের সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট যাদুকাটা, বারেকের টিলা ও রামসার প্রকল্পভুক্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের অপরূপ নৈসর্গিক দৃশ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভ্রমণপিয়াসী লোকজন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন হলে দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে পর্যটকের ভিড় আরও বেশি হতো।
বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, বারেকের টিলায় সকল ঋতুতেই অনেক পর্যটকের আগমন ঘটে। কিন্তু এখানে কোনো আবাসস্থল বা সরকারি ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা নানামুখী সমস্যায় পড়েন।
উত্তর বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, বারেকের টিলা একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য বিস্ময়। এর পাশেই মেঘালয় পাহাড় এবং বালি পাথরসমৃদ্ধ যাদুকাটা নদী।
- বিষয় :
- পর্যটন
