ফুটবল খেলার বিরোধে সংঘর্ষ দুই ওসিসহ আহত অর্ধশতাধিক
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৮:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় দুই থানার ওসি, ১০ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষকারীরা ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে হামলা চালিয়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষ, টিকিট কাউন্টারসহ কয়েকটি স্থাপনা ভাঙচুর করে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে পুলিশ, ভৈরব থানা পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালাতে হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌর শহরের পঞ্চবটি ও জগন্নাথপুর এলাকার যুবকদের মধ্যে ১৫ দিন আগে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্টেশন এলাকায় জগন্নাথপুর এলাকার এক যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল ও রেললাইনের পাথর নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশও হামলার শিকার হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ, রেলওয়ে থানার ওসি সাঈদ আহমেদ, তিন এসআই ও সাত কনস্টেবল। গুরুতর আহত কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে ভৈরবের পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, এগারোসিন্ধুর প্রভাতি, তিতাস কমিউটার, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসসহ অন্তত ছয়টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। রাত ১টা ৪০ মিনিটে মহানগর এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঢাকাগামী যাত্রী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শত শত যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কখন ট্রেন ছাড়বে সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ বলেন, ‘সংঘর্ষকারীরা স্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেছে। রাত সোয়া ৯টা থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’
ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘রেলস্টেশন ও রেললাইনে অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও আহত হয়েছেন। ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইউএনও কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- সংঘর্ষ
