শ্রেণিকক্ষে ধসে পড়ল ছাদের পলেস্তারা
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে গত সোমবার ছাদের পলেস্তারা ধসে রড বেরিয়ে আসে সমকাল
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ধসে পড়েছে ছাদের পলেস্তারা। গত সোমবার সকালে ভৈরব পৌর শহরের কালিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে এই ঘটনা। এ সময় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তানজিনা বেগম। এ ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনে ক্লাস নেওয়া বন্ধ রয়েছে।
পৌর শহরের কালিপুর গ্রামে ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৯ সালে বিদ্যালয়ে চার কক্ষের একটি ভবন নির্মিত হয়। ২০০৮ সালে দোতলা আরেকটি একটি ভবন নির্মাণ করে সরকার। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৩০২ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো প্রথম ভবনটির সব কক্ষেই সংস্কারের অভাবে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। সেখানে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ১৫৯ শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়েই ক্লাস করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার দুপুরে তৃতীয় শ্রেণির ক্লাসে ছাদের পলেস্তারা খসে একটি বেঞ্চের ওপর পড়ে। এ সময় পাশের বেঞ্চে ছিল তানজিনা বেগম। সে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায়। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা দৌড়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্য শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিয়ে যান।
এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লামিয়া, মোহাম্মদ আলী, তামিম আহমেদ জানায়, ছাদ ধসের পর তারা ভয় পেয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে আর ক্লাস করতে চায় না তারা।
রায়হান মিয়া নামের এক শিশুর বাবা বলেন, অল্পের জন্য শিক্ষার্থীরা প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি
দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি তাঁর।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্চিতা রানী নাহা বলেন, এই ঘটনার পর থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। দ্রুতই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ভৈরব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, কালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলার সময় পুরোনো ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি প্রধান শিক্ষক তাঁকে জানিয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশলীকে নিয়ে ভবনটি পরিদর্শনে যাবেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া
উপজেলার দক্ষিণ মাইজহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে। ঈদুল আজহার ছুটির পর গত রোববার বিদ্যালয় খোলার পরপরই বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবন ছেড়ে খোলা মাঠে ক্লাস নেন শিক্ষকেরা।
- বিষয় :
- বিদ্যালয়