ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সরকারি দামের অর্ধেকও পান না জেলার ব্যবসায়ীরা

সরকারি দামের অর্ধেকও পান না জেলার ব্যবসায়ীরা
×

লবণ দেওয়া চামড়া উল্টেপাল্টে দেখছেন কিশোরগঞ্জের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সমকাল

মোস্তফা কামাল, কিশোরগঞ্জ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৮:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার প্রতিবছর ঈদের আগে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাইরের ব্যবসায়ীরা এর অর্ধেকও বলেন না। কাঁচা চামড়ায় লবণ দেওয়ার পর যে দাম দাঁড়ায়, বাইরের ব্যবসায়ীদের কাছে সেটুকুও পান না স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এভাবে কয়েক বছর ধরে ঢাকার সিন্ডিকেটের কারসাজিতে জেলা পর্যায়ের চামড়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ শহরের পৌর মার্কেট এলাকায় সাপ্তাহিক চামড়া হাটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার যেন আগের মতো কাঁচা চামড়া বিদেশে রপ্তানির পরিবেশ তৈরি করে দেয়। প্রয়োজনে সরকারিভাবেও কাঁচা চামড়া কিনে বিদেশে রপ্তানি হতে পারে। 
ঈদের দুই সপ্তাহ পরও হাটে প্রচুর চামড়া উঠতে দেখা গেছে। কিন্তু ক্রেতার আনাগোনা অনেক কম। কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও এলাকার জামাল মিয়া ১৫০টি চামড়া নিয়ে এসেছিলেন হাটে। তিনি বলেন, প্রতিটি চামড়ায় লবণ, পরিবহন ভাড়াসহ গড়ে খরচ পড়েছে ৭৫০ টাকা। কিন্তু বাইরের ক্রেতারা এর থেকেও ১০ ভাগ মূল্য কম দিতে চান। তার ওপর রয়েছে হাটের খাজনার টাকা। এভাবে ব্যবসা করা যাবে না বলে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়ে জেলা শহরের নগুয়া এলাকার ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বললেন, ট্যানারিগুলো যদি উপযুক্ত দামে চামড়া না কেনে, তাহলে সরকার নিজ উদ্যোগে কাঁচা চামড়া কিনে বিদেশে রপ্তানি করতে পারে। আগে বিদেশে কাঁচা চামড়া রপ্তানি হতো। চীন ছিল বড় ক্রেতা দেশ। 
তাড়াইল উপজেলার ধলা এলাকার ব্যবসায়ী শংকর রবিদাস হাটে ৪০০ পিস চামড়া নিয়ে এসেছিলেন। কিছু চামড়া ছিল ২৬ বর্গফুট আয়তনের। তিনি জানান, সরকার প্রতি বর্গফুটের দাম  নির্ধারণ করেছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। সরকারি মূল্য অনুযায়ী এসব চামড়া দেড় হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকার ব্যবসায়ীরা বলেন মাত্র ৭০০ টাকা! সরকারের কাছে তাঁর দাবি, সরকারি দামে যেন কোম্পানিগুলো চামড়া কেনে। 

নিকলীর দামপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আলমাস মিয়া ১১০ পিস চামড়া নিয়ে এসেছিলেন। প্রতিটি চামড়ার দাম ৭৫০ টাকা পড়লেও ব্যবসায়ীরা বলছেন ৭০০ টাকা। পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলেরঘাট এলাকার ব্যবসায়ী আসাদ মিয়া হাটে এনেছিলেন ৩৫০ পিস চামড়া। তিনিও জানান, বাইরের ব্যবসায়ীরা যে দাম বলেন, তাতে চামড়ার দাম পড়ে ২০ টাকা বর্গফুট। ঋণ করে টাকা খাটিয়ে কীভাবে এই ব্যবসা ধরে রাখবেন, প্রশ্ন রাখেন তিনি।
করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন জানান, তিনি হাটে এসেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের থেকে চামড়া কেনার জন্য। এসব চামড়া তিনি ঢাকায় ট্যানারিগুলোতে সরবরাহ করবেন। এক হাজার পিস চামড়া কেনার উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষে বেশি দামে চামড়া কেনা সম্ভব হয় না। কারণ ট্যানারি মালিকরা আগের মতো চামড়ার দাম দিতে চান না।’

আরও পড়ুন

×