ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

পাবনায় সাত দিনে ৭ খুন আতঙ্কে গ্রামবাসী

পাবনায় সাত দিনে ৭ খুন আতঙ্কে গ্রামবাসী
×

পাবনা অফিস

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ ও সহিংস ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত সাত দিনে শহর ও আশপাশের এলাকায় পৃথক ঘটনায় চরমপন্থি সদস্য, কলেজছাত্র, স্কুলছাত্রীসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। এ সব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। 

পুলিশ সূত্র জানায়, ৮ জুন পাবনা শহরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকায় খুন হন চরমপন্থি সংগঠন নকশালের সদস্য আলী হোসেন (৫০)। শহরের মাসুম বাজার এলাকার জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার যুবক তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিকেল ৫টার দিকে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার মনিরুল ইসলাম (২০) নামে এক কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন রাকিব (২২) নামে এক যুবক। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর মনিরুলের মৃত্যু হয়।
গত ৩ জুন ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী রিয়া খাতুনকে (১৫) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পদ্মা নদীর তীরে তার লাশ পাওয়া যায়।

ঘটনার প্রতিবাদে ৪ জুন রিয়ার দাফন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত নাঈমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমন শেখ (৩৫), সাইফুল ইসলাম সাব্বির (২০) ও সাপু (২১) মারা যান।
গত ২ জুন পাবনা মানসিক হাসপাতালে আবাসিক ওয়ার্ডে দুই রোগীর সংঘর্ষে ইনজামুল হক (২৬) নামে এক রোগী নিহত হন। জানা যায়, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা অবস্থায় সিরাজগঞ্জের নাজমুল (২৮) ও ইনজামুলের মধ্যে গভীর রাতে সংঘর্ষ হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইনজামুল।
একের পর এক হত্যার ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে একই দিনে দুটি হত্যাকাণ্ডে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। জেলায় চরমপন্থি তৎপরতা ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

শহরের শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দুই মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। কাজের ক্ষতি হলেও নিজেই তাদের স্কুল ও কোচিংয়ে আনা-নেওয়া করছি। বর্তমান পরিস্থিতিকে সন্তানদের জন্য নিরাপদ মনে করছি না।’
সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আলী হোসেন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার সর্বত্র পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। 
চরমপন্থিদের পুনরুত্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রোজার ঈদের পর তাদের পোস্টারিংয়ের খবর পেয়েছিলাম। পুলিশ ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছে। বাস্তবে কোনো পোস্টার পাওয়া যায়নি।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×