ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

এবার যশোরে রোগীর মৃত্যু ঘিরে বিক্ষোভ

পরপর কয়েকটি ইনজেকশন পুশ করলে রোগীর মৃত্যু হয়

এবার যশোরে রোগীর মৃত্যু ঘিরে বিক্ষোভ
×

যশোর অফিস

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ২২:১৬

ঢাকায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার যশোরে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলের এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঢাকা ও যশোরের এই দুটি হাসপাতালই আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের অধীন। 

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জ্বর, ঠান্ডা ও কাশি নিয়ে যশোরের আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন শার্শার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের গাজীপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন।
 
ইমরানের খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন সমকালকে বলেন, ‘ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর কয়েকটি পরীক্ষা দেওয়া হয়। আমাদের বলা হয়েছিল, রাত ৯টার দিকে রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এর পর একজন নার্স কিছু ওষুধের তালিকা দেন। আমরা হাসপাতালের ফার্মেসি ও বাইরের দোকান থেকে ওষুধ সংগ্রহ করি। কিন্তু রোগীর মূল সমস্যা ছিল শ্বাসকষ্ট। আমরা ভেবেছিলাম তাঁকে দ্রুত অক্সিজেন দেওয়া হবে। এর পরিবর্তে একের পর এক ইনজেকশন দেওয়া হয়।’

ইসমাইল হোসেনের আরও অভিযোগ, প্রথম ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই ইমরান অস্বস্তি অনুভব করতে থাকেন। আবার ইনজেকশন না দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু এর পরও ইমরানের শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। দ্বিতীয় ইনজেকশনের পর ইমরানের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে। এর পর তৃতীয় ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তাদের ধারণা, সেখানেই ইমরানের মৃত্যু হয়। কিন্তু তা ধামাচাপা দিতে ইমরানকে আইসিইউতে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। 

এ ঘটনায় ইমরানের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে বলা হয়, ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। 

ইমরানের ১৭ মাসের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদুল হক বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী ইমার্জেন্সিতে ইমরানকে দেখা হয়েছে। এরপর তাঁকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও দেখেছেন। রোগীকে প্রাথমিকভাবে গ্যাস ও বমির চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিক্ষুব্ধ মানুষকে শান্ত করা হয়।

আরও পড়ুন

×