ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত বাজেট অবাস্তব ও দিকনির্দেশনাহীন: এনসিপি

প্রস্তাবিত বাজেট অবাস্তব ও দিকনির্দেশনাহীন: এনসিপি
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ২২:৫৪ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ | ২৩:০৭

প্রস্তাবিত বাজেটকে অবাস্তব বলে আখ্যা দিয়েছে এনসিপি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের মনোযোগকে ইতিবাচক বললেও আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দিকনির্দেশনাহীন বলেছে দলটি।

শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেছেন এনসিপির আতিকুর রহমান মোজাহিদ এমপি। বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন। এতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

আতিক মোজাহিদ বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট অনেকাংশে ফাঁপা বুলি ও প্রতারণামূলক। বর্তমান ভঙ্গুর ও ঋণনির্ভর অর্থনীতির বাস্তবতায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য কাল্পনিক ও অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী। 

এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান আতিক মোজাহিদ বলেন, সরকার এনবিআরের জন্য উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা অর্জনের বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা দেয়নি। এনবিআর সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাস্তবে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি আদায় সম্ভব হবে না। ফলে শুরু থেকেই আড়াই লাখ কোটি টাকার মতো ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

আতিক মোজাহিদ বলেন, বাড়তি এক লাখ কোটি টাকা আয়ের যে লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছে, তা কোথা থেকে, কার পকেট কেটে আনবে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট ও পরিষ্কার পথরেখা নেই। বাজেটে বিপুল ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেই ব্যয় নির্বাহের নির্ভরযোগ্য অর্থের উৎস স্পষ্ট নয়। এ কারণে পরবর্তীতে বাজেট সংকোচন বা ব্যয় কমানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আতিক মোজাহিদ আরও বলেন, সরকারের বৈদেশিক ঋণ ইতিমধ্যে ১০ লাখ কোটি টাকার বেশি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণের পরিমাণও প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবার নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ব্যাংকিং খাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। চাপে থাকা ব্যাংক খাত সংস্কার, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ কিংবা খেলাপি ঋণ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। 

রাজস্ব ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত সরকার যদি টাকা ছাপানোর পথে যায়, তাহলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। অথচ একই সঙ্গে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর-ভ্যাট কমানোর কথা বলছে, যা পরস্পরবিরোধী।

ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর উৎসে কর আরোপেরও বিরোধিতা করেছে এনসিপি। দলটি মনে করছে, এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধার মুখে পড়বেন।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, লুটতরাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি যেভাবে দুর্বল করা হয়েছে, তাতে রূপান্তরমুখী বাজেট প্রয়োজন ছিল। 

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবদিন শিশির ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×