ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবল

বহুগ্রামে মেসির ভাস্কর্য, নেইমারের প্রতিকৃতি

বহুগ্রামে মেসির ভাস্কর্য, নেইমারের প্রতিকৃতি
×

মনোজ সাহা, গোপালগঞ্জ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ২২:৪৮

আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে দাঁড়িয়ে আছেন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। পাশেই বল পায়ে ছুটছেন আরেক তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর সদর উপজেলার প্রত্যন্ত বহুগ্রামে দেখা মিলছে তাদের। তবে বাস্তবে না, ভক্তরা ভালোবেসে এই গ্রামে তৈরি করেছেন মেসির বিশাল ভাস্কর্য ও নেইমারের প্রতিকৃতি। পাশে টানানো হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের দীর্ঘ পতাকা। এসব আয়োজনে গ্রামটিতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

চার বছর পর আবারও শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল। এই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ঘিরে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রামে। এতে পিছিয়ে নেই বহুগ্রাম। এই গ্রামে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য। একই স্থানে রয়েছে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের প্রতিকৃতি। টানানো হয়েছে ৩৬০ ফুট দীর্ঘ ব্রাজিলের পতাকা।

প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং বিশ্বকাপের আনন্দ আরও বর্ণিল করতে এমন আয়োজন বলে জানিয়েছেন গ্রামটির আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থকরা। বিশ্বকাপ ঘিরে বহুগ্রাম এখন যেন ‘উৎসবের গ্রাম’।

গ্রামটির বাসিন্দা প্রভাষ দাস, অলক বিশ্বাস, বাদল মণ্ডল ও সজীব বিশ্বাসের উদ্যোগে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা গত ২২ মে থেকে ছন, বাঁশ, কাঠ ও মাটি দিয়ে মেসির ভাস্কর্য তৈরির কাজ শুরু করেন। এখন সেটি রং ও তুলির টানে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। ভাস্কর্য নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। আগামী ১৭ জুন আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার ম্যাচ রয়েছে। এর আগেই ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন সমর্থকরা। নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

শুধু আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল নয়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে এলাকায় টানানো হয়েছে জার্মানি ও স্পেনের পতাকা। সব মিলিয়ে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে এক বহুজাতিক ফুটবল সমর্থনের রঙিন মঞ্চে। তবে আয়োজনের পরিধি শুধু ভাস্কর্য বা পতাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আয়োজকদের একজন সজীব বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের গ্রাম ইতোমধ্যে মেসির গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপ। তাই তাঁর জন্য এমন কিছু করেছি, যেটা বাংলাদেশের কেউ করেনি। তাঁকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতেই ভাস্কর্য নির্মাণ করছি। আমরা চাই মেসির ভাস্কর্যের সামনে বসেই বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করতে। দর্শকদের জন্য আপ্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।’

ব্রাজিল সমর্থক সুধাংশু মজুমদার বলেন, ‘ব্রাজিলকে সমর্থন জানাতে আমরা ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা টানিয়েছি। এটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এটি দেখছে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকরা একসঙ্গে বসে খেলা দেখব। এখানে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা একসঙ্গে বসে খেলা দেখব, কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না।’

ফুটবলপ্রেমী কল্লোল বিশ্বাস বলেন, ‘ফুটবল আমাদের আবেগের জায়গা। বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা নেইমারের প্রতিকৃতি ও বিশাল পতাকার আয়োজন করেছি। স্থানীয়রা আমাদের এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন।’

স্থানীয় চা দোকানি বিন্দু বাড়ৈ বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে এখানে চায়ের আড্ডা বসছে। দোকানে ভালো কেনাবেচা হচ্ছে। বহুগ্রামের আরেক বাসিন্দা নিহার মুখার্জী বলেন, প্রিয় ফুটবল দলকে সমর্থন করে হৈহুল্লোড় এবং ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি তৈরি ও পতাকা টানানোর মতো আয়োজন বহুগ্রামকে আশপাশ এলাকার উৎসবের কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
 

আরও পড়ুন

×