রমেক হাসপাতাল
রোগীর মৃত্যু ঘিরে হাতাহাতিতে চিকিৎসক আহত, বিক্ষোভ
মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ স্বজনের
হাতাহাতির ঘটনায় জরুরি বিভাগে রোগী সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ছবি-সমকাল
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ২১:৩০
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে শনিবার সকালে এক রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজনের সঙ্গে চিকিৎসকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক চিকিৎসক আহত হয়েছেন। জড়িতদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এ সময় মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ এনে রোগীর স্বজনরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরনাহার বেগম (৫৫) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর ছেলে রিফাত হোসেন তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
স্বজনের অভিযোগ, শ্বাসকষ্টের কারণে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে রোগীকে দ্রুত অক্সিজেন দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও আগে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়। এর মধ্যেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে নুরনাহারের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানান, রোগী মারা গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সঙ্গে থাকা স্বজন। এক পর্যায়ে হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মারধরে আহত হন কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈম। এর প্রতিবাদে হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন এবং ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে না মর্মে হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দেন।
এ কারণে আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে রোগী সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
নুরনাহার বেগমের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পরে আমার মাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া শুরু করলে হয়তো তিনি বেঁচে থাকতেন। কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ভর্তির কাগজপত্র আগে নিতে বলেন। চিকিৎসায় কালক্ষেপণ করার কারণেই আমার মায়ের হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে।’
নুরুজ্জামান আরও বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় হাসপাতালের কয়েকজন তাঁর মায়ের মরদেহ নামিয়ে নিয়ে আটকে রাখেন। তাঁর দাবি, সামান্য কথা-কাটাকাটি হওয়ার জেরে এমন অমানবিক আচরণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হাসপাতালে মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগে আজ দুপুর দেড়টার দিকে স্বজনরা মেডিকেল মোড় এলাকায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে স্থানীয় অনেক বাসিন্দাও অংশ নেন। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের লোকজনের হস্তক্ষেপে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। সোয়া ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন আটকা পড়ায় দূরপাল্লার বাসের যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘সংকটাপন্ন অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে আনার পরেই মারা গেছেন। ঘটনাটি দুঃখজনক। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি ছিল না। রোগীর মৃত্যুর পরে স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর শারীরিক আক্রমণ করেছেন এবং দায়িত্বরত নার্সের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান বলেন, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময় মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা চেয়েছিলেন ঘটনার বিষয়ে রোগীর স্বজনদের ক্ষমা চাইতে হবে। কিন্তু রোগীর স্বজনরা মরদেহ নিতে হাসপাতালে আসেননি, ক্ষমাও চাননি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জানতে চাইলে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের সমকালকে বলেন, মরদেহ হস্তান্তরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- রংপুর
- হাসপাতাল
- রোগীর মৃত্যু
- হাতাহাতি
- মহাসড়ক অবরোধ
