ভুল চিকিৎসায় গ্যাংগ্রিন
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৫
চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ৪ জুন শিশুটির মৃত্যু হয়। গত শনিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এমন অভিযোগ তোলেন নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা আমাতুল মাকনুন। তিনি সন্তানের মৃত্যুর জন্য বায়েজীদ থানাধীন আরেফিন নগরের সাজিনাস হাসপাতাল লিমিটেড কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন।
আমাতুল মাকনুনের পোস্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নানা সমালোচনা শুরু হয়। এতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৫ মে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নগরীর সার্জিস্কোপ হাসপাতালে তাঁর ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। শিশুটি অক্সিজেনের সমস্যা ও নিউমোনিয়ায় ভুগছিল। ওই হাসপাতালে সেই সুবিধা না থাকায় সাজিনাস হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করেন।
ওই হাসপাতালে এক শিশু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু হয় নবজাতকের। ঈদুল আজহার ছুটিতে অন্য চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করেন। কয়েক দিন পর নবজাতকের অবস্থার উন্নতি হয়। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে এনআইসিইউতে গিয়ে সন্তানকে দেখে আসতেন মা। পঞ্চম দিনে হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, শিশুটিকে এনআইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হবে। আমাতুল মাকনুন লিখেন, ‘সেদিন সন্তানের পাশে থাকার সময় হঠাৎ তার বাঁ হাতে ব্যান্ডেজ দেখতে পাই। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, চিন্তার কিছু নেই। পরদিন চিকিৎসকদের ডাকে গিয়ে যে দৃশ্য দেখলাম, তা জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্ত। তা দেখে আমি সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার দিলাম।’
তিনি লেখেন, ‘গতকাল শিশুকে দেখে গেলাম ভালো, আজকে কেন এ অবস্থা? আমি বুঝে গিয়েছি, ক্যানোলাতে ভুল করেছে। এটা সেলুলাইটিস হয়ে গ্যাংগ্রিনের দিকে চলে যাচ্ছে।’
পরে শিশুটিকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির জীবন বাঁচাতে আক্রান্ত হাত
কেটে ফেলতে হবে। পরিবারের সম্মতিতে অস্ত্রোপচার করে হাত অপসারণ করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে সংক্রমণ শরীরের ভেতরে গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে অস্ত্রোপচারের পরদিন অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। শরীরের রং বদলে যায়, ফুলে যায় লিভার ও পেট। একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।
আমাতুল মাকনুনের ভাষ্য, ‘ঢাকার ইবনে সিনা, এভারকেয়ারসহ সব জায়গার ডাক্তাররা আমাদের বলেছিলেন, চট্টগ্রামে ভুল চিকিৎসা ও অনভিজ্ঞদের চিকিৎসার কারণেই আমার বাচ্চার এই অবস্থা হয়েছে। সাজিনাস হাসপাতালের চিকিৎসকরাই আমার বাচ্চাকে খুন করেছে। এতোদিন অসুস্থ থাকায় জানাতে পারিনি। এ ঘটনার বিচার না হলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো মায়ের বুক খালি হবে।’
এ বিষয়ে সাজিনাস হাসপাতাল লিমিটেডের পরিচালক (মেডিকেল) ডা. সরওয়ার কাশেমের দাবি, শিশুটি সার্জিস্কোপ হাসপাতাল থেকেই ক্যানোলা ইনফেকশন নিয়ে তাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়। দুই দিন উন্নতি হলেও তৃতীয় দিন থেকে অবনতি হতে থাকে। শিশুটিকে এভারকেয়ারে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও পরিবার নিয়েছে অন্য আরেকটি হাসপাতালে। এতে অনেক সময় নষ্ট হয়।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গ্যাংগ্রিনে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নানা মাধ্যমে শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।’
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
