ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

শিশুর বস্তাবন্দী লাশ

অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর

অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর
×

ছবি: সমকাল

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ২১:৫৩ | আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ | ২২:১৩

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজের একদিন পর সাত বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। পরে অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) গাড়িসহ প্রশাসনের একাধিক যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

আজ মঙ্গলবার উপজেলার ফলিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু প্রথম শ্রেণিতে পড়ত।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশুটি। সন্ধ্যার পরও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে এক ব্যক্তি প্রতিবেশী বিধান চন্দ্র রায়কে কোদাল হাতে ভুট্টাখেত থেকে বের হতে দেখেন। এতে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি গর্তে মাটি চাপা দেওয়া বস্তাবন্দী মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সন্দেহভাজন বিধান চন্দ্রকে আটক করে ডিবি পুলিশ। বিধানের বাবা রণজিৎ চন্দ্রকেও আটক করা হয়। এ সময় উত্তেজিত লোকজন জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত দুজনকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। কিন্তু পুলিশ আটক দুজনকে নিজের হেফাজতে রাখার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মুমিনুল হক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘটনাস্থলে যান।

উত্তেজিত জনতার দাবির মুখে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহারের ঘোষণা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে পরে পুলিশ অভিযুক্ত দু'জনকে নিয়ে ফেরার পথে কয়েক হাজার মানুষ সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে ডিসি ও এসপির গাড়িসহ প্রশাসনের একাধিক যানবাহন ভাঙচুর করে। এ সময় জেলা প্রশাসনের এনডিসি আল আমিন, জেলা প্রশাসকের দেহরক্ষী কনস্টেবল মাজেদ ইসলাম, ডিবি ও থানা পুলিশের সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৭ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজীব কুমার সাহা বলেন, ‘অধিকাংশই ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

নিহত শিশুর বাবা বলেন, ‘সোমবার দুপুরেও মেয়ের সঙ্গে খেয়েছি। আমার ছোট মেয়েটাকে যারা এভাবে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

শিশুটির মা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে জোর করে ভুট্টাখেতে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ সহযোগিতা করেনি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, 'লাশ উদ্ধার ও আইনগত কার্যক্রম পরিচালনার সময় পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন, বিজিবি ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে হয়। জনতার দাবির মুখে ওসিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপরও একটি মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে।'

পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, 'বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ  সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

×