ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর, আটক ২

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর, আটক ২
×

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০১:১১

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রেস ক্লাব থেকে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নিউজ ও বাংলাদেশের খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক ত্রিনদী পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী এবং জেলার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

অভিযোগে জানা যায়, হাজীগঞ্জ বাজারের মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক মো. ফারুক হোসেন লিটনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি হাজীগঞ্জ প্রেস ক্লাবে গিয়ে মহিউদ্দিন আল আজাদকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে ওই হোটেলে নিয়ে মারধর করা হয়।

এ খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত ফারুক হোসেন লিটন ও তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, মাতৃমায়া আবাসিক হোটেল ও এর মালিক ফারুক হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ওই হোটেল থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধারের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশনা অমান্য করে হোটেলটি চালু রাখা হয়েছে।

এদিকে ওই হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ সম্প্রতি এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করে। এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদের প্রকাশিত সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আহত সাংবাদিক প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় তিনি ফারুক হোসেন লিটন, তার ছেলে তাওহীদ হোসেন, বাবা আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল মান্নান জানান, এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে।

নির্দেশনা অমান্য করে আবাসিক হোটেল পরিচালনার অভিযোগে মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করে দেন।

আরও পড়ুন

×