ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান

প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান
×

ছবি : সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০০:৩২

দেশে প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি অবহেলা, বৈষম্য, সম্পত্তি বঞ্চনা এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক দশমাংশ, অর্থাৎ এক কোটি ৬০ লাখের বেশি ষাটোর্ধ্ব মানুষ নানা ধরনের নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন। এ প্রেক্ষাপটে ‘বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ সচেতনতা দিবস’ উপলক্ষে প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রতি বছর ১৫ জুন জাতিসংঘের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। দিবসটির লক্ষ্য হলো প্রবীণদের প্রতি সহিংসতা, অবহেলা, আর্থিক শোষণ, মানসিক ও মৌখিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ছয়জন প্রবীণের মধ্যে অন্তত একজন কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতন বা অবহেলার শিকার হন।

দিবসটি উপলক্ষে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক), নবীন-প্রবীণ আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব (আইএসএসসি) এবং ফোরাম ফর দ্য রাইটস অব দ্য এল্ডারলি বাংলাদেশ (এফআরইবি)। ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (বাইগাম), নেটওয়ার্ক অব হেল্পএইজ পার্টনারস ইন বাংলাদেশ (এনএইচপিবি), নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ) এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ নাগরিকরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবীণ নারী-পুরুষের প্রতি অবহেলা ও নির্যাতনের ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা প্রবীণদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। তারা বলেন, প্রবীণ নির্যাতন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘সচেতনতার গণ্ডি পেরিয়ে: প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধকে কার্যকর করি’। এই প্রতিপাদ্যের আলোকে বক্তারা ‘জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা, ২০১৩’ বাস্তবায়নের দাবি জানান। তাদের মতে, প্রবীণদের ওপর নির্যাতনের বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল করে তোলে। তাই কেবল প্রতিবাদ নয়, রাষ্ট্রীয়, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি পাড়া-মহল্লা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ‘ইমপ্রুভড ইনকাম সিকিউরিটি থ্রু স্ট্রেনদেনড ইন্টারজেনারেশনাল গ্রুপস ফর ওল্ডার পিপল ইন বাংলাদেশ (আইএসআইজিওপি)’ প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী ও গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু। তিনি বলেন, প্রবীণরা একটি জাতির অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবোধের ভাণ্ডার। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তাদের অবদান অপরিসীম। অথচ জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে অনেকেই অবহেলা, নির্যাতন, একাকিত্ব ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হন। এটি শুধু পারিবারিক নয়, একটি সামাজিক সমস্যাও।

তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং পরিবারে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি।

জার্মান ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিএমজেড) ও হেল্পএইজ জার্মানির সহযোগিতায় পরিচালিত আইএসআইজিওপি প্রকল্পের আওতায় গত আড়াই বছর ধরে আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি গড়ে তুলতে কাজ করছে রিক। আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাবের মাধ্যমে প্রবীণদের সুরক্ষা, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন খিলগাঁও আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না, খালেদুল ইসলাম, ফেরদৌসি বেগম গীতালি, অসীম সাহা, খন্দকার রিয়াজ হোসেন, মো. মুখলেছুর রহমান, তাসলিমা আহমেদ ও আনিছুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন

×