ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় হলুদ পাহাড়ি কাছিমের আরও পাঁচ বাচ্চা

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় হলুদ পাহাড়ি কাছিমের আরও পাঁচ বাচ্চা
×

আধুনিক বাসস্থান এবং উন্নত পরিচর্যার ব্যবস্থা করার পর থেকেই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় হলুদ পাহাড়ি কাছিমের প্রজনন বাড়ছে সমকাল

 চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৮:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় মহাবিপন্ন প্রজাতির হলুদ পাহাড়ি কাছিমের ৫টি বাচ্চা ফুটেছে। গত চার বছরে এখানে কাছিমের সংখ্যা ৮টি থেকে বেড়ে ১৬টি হলো। এর আগে ২০২৩ সালে ৩টি এবং ২০২৫ সালে ৫টি বাচ্চা জন্ম নিয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সমকালকে তিনি জানান, বাংলাদেশে বন্দি অবস্থায় এই বিপন্ন কাছিমের বংশবৃদ্ধি একটি বড় সাফল্য। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ২০২২ সালে কাছিমগুলোর জন্য আধুনিক ও বড় বাসস্থান তৈরি এবং উন্নত পরিচর্যার ব্যবস্থা করার পর থেকেই এখানে নিয়মিত বাচ্চা ফুটছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিলুপ্তির মুখে থাকায় হলুদ পাহাড়ি কাছিম (যা লম্বা কচ্ছপ নামেও পরিচিত) ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় ‘মহাবিপন্ন’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস এবং অবৈধ শিকার ও পাচারের কারণে এরা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ বনাঞ্চলে এদের দেখা মিললেও প্রাকৃতিকভাবে এদের সংখ্যা দিন দিন কমছে।

ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ জানান, ২০১৩ সালের পর দীর্ঘ সময় চিড়িয়াখানায় এই কাছিম কোনো বাচ্চা দেয়নি। পরে ২০২২ সালে তাদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের মতো করে নতুন বাসস্থান তৈরি করা হয়। এর প্রায় ১৫ মাস পর প্রথমবারের মতো ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। সাধারণত একটি স্ত্রী কাছিম একবারে ৩ থেকে ৫টি ডিম দেয় এবং ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ১২০ থেকে ১৫০ দিন সময় লাগে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, বন্দি অবস্থায় এই মহাবিপন্ন কাছিমের বংশবৃদ্ধি একটি বড় সাফল্য। এর ফলে ভবিষ্যতে এদের টিকিয়ে রাখার কাজ আরও সহজ হবে। উপযুক্ত পরিবেশ এবং সরকারি অনুমতি পেলে কাছিমগুলোর একটি অংশকে পরে আবার বনে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রকৃতি গবেষক ড. আবদুল আজিম শাহ বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা শুধু বিনোদনকেন্দ্র নয়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রজনন কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অতীতে এখানে বাঘ, অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর সফল প্রজনন হয়েছে। এবার মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কাছিমের এই জন্ম দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন আশা জাগিয়েছে।

আরও পড়ুন

×