২৪ ঘণ্টার ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন ঘরে অশান্তি, ব্যবসায় ধস
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৮:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার সর্বত্র এই বিপর্যয় চলমান।
জানা গেছে, উপজেলার সব এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই লোডশেডিংয়ের খাতায়। গড়ে মাত্র চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে গ্রাহকদের; যার কারণে আবাসিক এলাকার হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার– সর্বত্র দুর্ভোগে নাকাল মানুষ। চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ধস নেমেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, নির্ধারিত কোনো শিডিউল ছাড়াই চলছে লোডশেডিং। দিন-রাতের যেকোনো সময় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু-বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ আছেন অবর্ণনীয় দুর্ভোগে। রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও সেটি বিকল থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম।
তাহিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী মুতাকাব্বির মিয়া বলেন, ফ্রিজ বন্ধ থাকায় আইসক্রিম ও ঠান্ডা জাতীয় খাবার নষ্ট হচ্ছে। ক্রেতারাও দোকানে আসছেন না। ব্যবসা একেবারে বসে গেছে।
এদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিয়মিত শিডিউল অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাহিরপুর জয়নাল আবেদীন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহির উদ্দিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর এমন এক উপজেলা, যেখানে দৈনিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না।
টাঙ্গুয়ার হাওর-সংলগ্ন ছিলানি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হালিম সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করছে গ্রাহক। কিন্তু বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।
স্থানীয় তরুণদের একাংশ জানায়, সারাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলে বুঁদ হয়ে আছে। এখানকার মানুষ সেই উৎসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়। অথচ এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রামের রোগী জালাল উদ্দিন বলেন, গরমে প্রাণ বের হয়ে যাচ্ছে। সারারাত বিদ্যুৎ থাকে না। হঠাৎ এলেও ৩০ মিনিট পরেই চলে যায়।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন বলেন, সারারাত বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ক্রীড়ামোদীরা বিশ্বকাপের ফুটবল খেলা দেখতে পারছেন না। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক তাহিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক অমর সরকার জানান, বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে পুরো ব্যাংক পিরিয়ড জেনারেটর দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। চাকরি জীবনের ৩৫ বছরে বিদ্যুতের এমন ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের অভিজ্ঞতা আর হয়নি।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) নাশাদ আহমেদ বলেন, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাস্থ্যসেবা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হাসপাতালের জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। মেরামতের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে। তারা এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আলাউল হক সরকার জানান, তাহিরপুর উপজেলায় দৈনিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট। ঘাটতি বেশি হওয়ায় প্রতি এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিলে বাধ্য হয়ে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
- বিষয় :
- বিদ্যুৎ সরবরাহ
