ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

‘কারেন্ট যদি না থাকে অফিস রাইখে কি হবে’

‘কারেন্ট যদি না থাকে অফিস রাইখে কি হবে’
×

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাট ও কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ২২:০৯ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ | ২২:১৬

খুলনার কয়রায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ইটপাটকেল ছোড়ায় নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে আটক হয়েছেন রবিউল ইসলাম নামের এক যুবক। 

আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় তাঁকে আটকের পর গায়ের শার্ট খুলে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন বিদ্যুৎবিভাগের কর্মীরা। 

পেশায় ফেরিওয়ালা রবিউল কয়রা গ্রামের রুস্তম আলী সরদারের ছেলে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘সারাদিন কাজ কইরে রাত্রিবেলা এট্টু ভালভাবে ঘুম পাড়বো, তার উপায় নেই। খালি কারেন্ট যায় আর আসে। কাল (বুধবার) রাত্রির তো বেশি ভোগান্তি দেছে। রাতে সিদ্ধান্ত নিছি, সকালে কাজে যাবার আগে অফিস ভাঙবো। কারেন্ট যদি না থাকে অফিস রাইখে কি হবে?’

রবিউলের প্রতিবেশী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বুধবার প্রায় সারারাত বিদ্যুৎ ছিল না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে (রবিউল) সারারাত বিদ্যুতের লোকজনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সকালে তিনি শোনেন, তাঁকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। এ সময় রবিউলের সঙ্গে করা আচরণকে অমানবিক বলে মনে করেন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়রা জোনাল অফিসের ডিজিএম মাহফুজার রহমান খান বলেন, এক যুবক অফিসের জানালা-দরজায় ইটপাটকেল ছুড়ছিলেন। জানালার কাচ ভেঙে গেছে। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি চড়াও হন। তাঁকে নিবৃত্ত করতেই খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। 

কয়রা থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। এর আগে কি ঘটেছে, জানা নেই। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি লিখিত অভিযোগ না দিলে তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেবেন। 

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মানুষ

‘এখন বিদ্যুৎ থাকে না বল্লেই চলে। দিনের বেলায় মোটামুটি যা থাকে। কিন্তু রাতের বেলায় আরো খারাপ। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে, এক ঘণ্টা থাকে না।’ ক্ষোভের সুরে কথাগুলো বলেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরন ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সাব্বির হোসেন (২৩)। এই কলেজছাত্র জানান, এক সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে আসে– এই প্রবাদ আমাদের এলাকায় এখন পুরাই সত্যি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাটের গ্রামাঞ্চলে দিনে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতে প্রচণ্ড গরমে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না মানুষ। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ফুটবল আসরের সব খেলা দেখতে না পারায় তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। জেলায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৩৪ শতাংশ।

শহরাঞ্চলেও লোডশেডিং দিচ্ছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। খারদ্বার এলাকার তাহুরুন নেসা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে এত বার বিদ্যুৎ যায়। ছোট বাচ্চা নিয়ে খুবই দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দাবি, সরবরাহেও ঘাড়তির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বাগেরহাটের ৯টি উপজেলা ও খুলনার রুপসা উপজেলা মিলিয়ে আমাদের গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ। ৯৪টি ফিডারের জন্য দিনে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে নূন্যতম ১১৯ মেগাওয়াট। সেখানে আমরা সরবরাহ পাচ্ছি ৭৮ মেগাওয়াট। ঘাটতি রয়েছে ৩৪ শতাংশ।’

আরও পড়ুন

×