ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সব শর্ত পূরণ করেও আটকে আছে ফরিদপুর সিটি করপোরেশন

সব শর্ত পূরণ করেও আটকে আছে ফরিদপুর সিটি করপোরেশন
×

ম্যাপ

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০২:১৮

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) প্রতিষ্ঠা বিধিমালা-২০১০ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করলেও সাত বছর ধরে আটকে আছে ফরিদপুর সিটি করপোরেশন গঠনের প্রস্তাব। এতে একদিকে উচ্চহারে কর দিচ্ছেন নাগরিকরা, অন্যদিকে বর্ধিত এলাকার অধিকাংশ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে।

২০১৮ সালে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত প্রাথমিক কমিটি (প্রি-নিকার) ফরিদপুর সিটি করপোরেশন গঠনের প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করে। ২০১৯ সালে নিকার বৈঠকে বিষয়টি এক নম্বর এজেন্ডা হিসেবে ওঠে। তবে ওই বৈঠকে বিভাগীয় সদরদপ্তর স্থাপনের শর্ত যুক্ত করা হলে প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। অথচ সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা বিধিমালায় এমন কোনো শর্ত নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেই ফরিদপুর বঞ্চনার শিকার হয়েছে। সম্প্রতি বিভাগীয় সদর না হয়েও বগুড়া সিটি করপোরেশনের অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন ফরিদপুরবাসী।

সিটি করপোরেশনের লক্ষ্যে সাত বছর আগে পৌরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৯ থেকে বাড়িয়ে ২৭ করা হয়। আয়তন দাঁড়ায় ৬৬ দশমিক ৫৪ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখে উন্নীত হয়। কিন্তু পৌরসভার মর্যাদা না বাড়ায় নাগরিক সেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

টাকার অভাবে রাস্তাঘাট সংস্কার, মশক নিধন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সুপেয় পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংকট দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক এলাকায় স্ট্রিট লাইটও অকার্যকর।

গত ১৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ফরিদপুরে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের উপস্থিতিতে স্থানীয় নেতারা সিটি করপোরেশন বাস্তবায়নের দাবি পুনরায় উত্থাপন করেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা বলেন, সিটি করপোরেশন গঠন ঝুলে থাকায় পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। একদিকে কর বাড়ছে, অন্যদিকে নাগরিক সুবিধা কমছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক পান্না বালা বলেন, দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ফরিদপুর সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন করা উচিত।

ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শিপ্রা বায় বলেন, ‘১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই পৌরসভা সব শর্ত পূরণ করার পরও বৈষম্যের শিকার। বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি।’

প্রসঙ্গত, সিটি করপোরেশন গঠনের জন্য নির্ধারিত আটটি শর্তের সবকটিই পূরণ করেছে ফরিদপুর। বর্তমানে পৌরসভার জনসংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ, নিজস্ব আয় ৫১ কোটি টাকা এবং স্থানীয় আয়ের উৎস প্রায় ২০ কোটি টাকা। ছোট-বড় ২২৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের সুযোগ ও অনুকূল জনমতও রয়েছে। তবু দীর্ঘ সাত বছর ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ফরিদপুরের বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন

×