জ্বালানি রূপান্তর সূচকে বাংলাদেশ ৯৯তম
শ্রীলঙ্কা-ভারতের চেয়ে পিছিয়ে
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০২:১০
পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার সূচকে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৯৯তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও শ্রীলঙ্কার নিচে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম ও অ্যাকসেঞ্চারের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত জ্বালানি রূপান্তর সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতার ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, অবস্থান ৬৮তম। এর পরেই রয়েছে ভারত, ৭০তম। পাকিস্তান ৯০তম এবং নেপালের অবস্থান ১১১তম।
বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় টানা তৃতীয় বছরের মতো প্রথম স্থানে রয়েছে সুইডেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো শীর্ষ ২০টির মধ্যে ১৪টি স্থান দখল করে রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সুবিধার বিস্তার ঘটলেও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের গতি এখনও ধীর। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর উচ্চ নির্ভরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২৫ সালে জ্বালানি খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার গেছে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তিতে। তবুও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থায়নের সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা জ্বালানি রূপান্তরের পথকে কঠিন করে তুলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু বিনিয়োগ বাড়ালেই হবে না, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে সফল রূপান্তরের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নীতি, শক্তিশালী অবকাঠামো, সহজ অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা।
- বিষয় :
- জ্বালানি
