ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত

চট্টগ্রামে মাদক মামলার তদন্তে জালিয়াতি, কর্মকর্তার শাস্তির সুপারিশ

চট্টগ্রামে মাদক মামলার তদন্তে জালিয়াতি, কর্মকর্তার শাস্তির সুপারিশ
×

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৪:৫৪

চট্টগ্রামে মাদক মামলার দুই আসামিকে জালিয়াতির মাধ্যমে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেন তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বদরুদ্দোজা। এ জন্য নিরপরাধ এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বরের সিডিআর দাখিল, সেটি সংগ্রহে পদবি গোপন, আসামির পিসিপিআর (আগের অপরাধের খতিয়ান) অন্যের নামে চালানোর মতো জালিয়াতি করেন তিনি। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এতে এসআই বদরুদ্দোজার শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে মাদক মামলার তদন্তে নাম ওঠে আসে মো. ফোরকান মিয়ার। মাদক চোরাচালানে তিনি জড়িত কিনা তা যাচাই করতে তাঁর পরিবর্তে এক নিরীহ ব্যক্তির মোবাইল নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করেন এসআই বদরুদ্দোজা। তিনি ভুল সিডিআরটি ফোরকানের বলে তদন্তে চালিয়ে দেন। ফোরকানের উল্লেখ করা যে নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করেছিলেন, তা ছিল বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার এক ব্যক্তির। সিডিআর সংগ্রহে এসআই বদরুদ্দোজা নিজের আসল পরিচয় গোপন রেখে নিজেকে পুলিশ পরিদর্শক পরিচয়-পদবি তুলে ধরেন। ভুল নম্বরের সিডিআর তদন্ত শেষে নথিতে তুলে ধরে ফোরকানের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেন।

গত ১৩ জুন দাখিল করা বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ডবলমুরিং থানার মাদক মামলার অভিযোগপত্র থেকে ফোরকান ও মো. আলাউদ্দিনের নাম বাদ দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি আলাউদ্দিনের ভাগনে ও বাদ দেওয়া আসামি ফোরকানের ভাই এমরানের সঙ্গে তদন্তাধীন বিষয়ে মোবাইল ফোনে আলাপ করেন। ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে এসআই কর্ণফুলী থানায় ইয়াবা মামলার পলাতক আসামি এমরানের সঙ্গে অভিযোগপত্র দাখিলের আগের দিনও কথা বলেন। এতে আরও বলা হয়, এসআই বদরুদ্দোজা ১৯৮৯ সালের ৪ জানুয়ারি কনস্টেবল পদে পুলিশে যোগ দেন। পরে এসআই পদে পদোন্নতি লাভ করেন। চাকরি জীবনে তিনি অসদাচরণের ঘটনায় একটি গুরুদণ্ড পেয়েছেন। লঘুদণ্ড পেয়েছেন ১১টি। তাঁর চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক নয়।

সিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) মো. মাসুদ রানা বলেন, সাক্ষীদের জবানবন্দি, তথ্য-উপাত্ত, চাকরির রেকর্ড পর্যালোচনা করে ভুল নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ ও মিথ্যা পদবি ব্যবহারের সত্যতা সার্বিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তাই এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে এসআই বদরুদ্দোজার বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এক বছরের জন্য স্থগিতের সুপারিশ করা হয়েছে।

এসআই বদরুদ্দোজা বলেন, তদন্তের সময় সোর্সের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ভুল সিডিআর সংগ্রাহ করা হয়েছিল। কাউকে বাঁচানোর জন্য ভুল সিডিআর সংগ্রহ করা হয়নি। তদন্ত নিরপেক্ষভাবেই করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন

×