ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদ আলুচাষিদের

হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদ আলুচাষিদের
×

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। গতকাল রোববার জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের কালাই পৌরশহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। ছবি: সমকাল

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ০৮:০৮

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের কালাই পৌরশহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন। 

ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল অর্গানাইজেশন আলু ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে তিন শতাধিক চাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল অর্গানাইজেশন আলুর সভাপতি এ কে এম রেজাউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ হোসেন, ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান, চাষি নুর আলম প্রমুখ।  

বক্তারা বলেন, জেলার মোট ১৯টি হিমাগারের মধ্যে কালাই উপজেলাতেই ১২টি অবস্থিত। সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদন ও হিমাগারে সংরক্ষণ করে এই উপজেলার চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হিমাগারের মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়িয়েছেন। এতে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রতি ৬০ কেজি আলুর বস্তা সংরক্ষণে হিমাগারে ৪০০ থেকে ৪৩০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে গড়ে প্রতি কেজিতে ৬ দশমিক ৯০ টাকা খরচ হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয়সহ প্রতিকেজি আলুর খরচ ২২ থেকে ২৩ টাকার বেশি হলেও বর্তমানে বাজারে ১৪ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, জেলার অন্য উপজেলার তুলনায় কালাইয়ে সংরক্ষণ ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে। ভাড়া কমিয়ে পাঁচ টাকা কেজিতে প্রতি বস্তায় ৩০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবি জানান তিনি। 

এদিকে ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে এক সপ্তাহ ধরে আলু বেচাকেনা বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা। 

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জিন্দারপুর ইউনিয়নে মোলামগাড়ীহাট নর্থপোল কোল্ড স্টোরেজের সামনে একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে আলু সংরক্ষণকারী, চাষি ও ব্যবসায়ীরা। 

উপজেলা কৃষক, সংরক্ষণকারী ও ব্যবসায়ীগণের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে আড়াই শতাধিক চাষি, সংরক্ষণকারী ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। এ সময় বক্তব্য দেন, কৃষক, সংরক্ষণকারী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি তাজমিনুর রহমান, ব্যবসায়ী মো. গোলাম মোস্তফা, রেজাউল ইসলাম, বুলবুল আহমেদ, কৃষক আবুল আলিম, রিপণ আহম্মেদ, সংরক্ষণকারী কামাল হোসেনসহ অনেকে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, হিমাগারে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে জেলায়ও আলোচনা হয়েছে। হিমাগার কর্তৃপক্ষ ভাড়ার বিষয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে নিলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না। মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে এবারও ভাড়ার বিষয়টি ফয়সালা করতে হিমাগার মালিকদের বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×