ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

পুকুর দখল করে মাছ চাষ ভাঙছে বিদ্যালয়ের মাঠ

পুকুর দখল করে মাছ চাষ ভাঙছে বিদ্যালয়ের মাঠ
×

নান্দাইল উপজেলার কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুর দখল করে মাছ চাষ সমকাল

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যালয়ের ছোট্ট একটি মাঠ। মাঠ ঘেঁষে ২০ শতকের একটি পুকুর। বিদ্যালয়ের পুকুরটি দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। এতে পাড় ভেঙে মাঠটি ক্রমে ছোট হয়ে আসছে। পুকুরে সেচ দেওয়ার জন্য বসানো হয়েছে বৈদ্যুতিক মোটর। এতে শিশু শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এই ঘটনা নান্দাইল উপজেলার কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

জানা গেছে, রাজগাতী ইউনিয়নের কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৫০ শতক জমির ওপর গড়ে ওঠে ১৯৭৩ সালে। বর্তমানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন ছয়জন শিক্ষক। বিদ্যালয়ের মাঠের পশ্চিম পাশে একটি পাকা ও উত্তর পাশে একটি আধাপাকা ভবন এবং তাঁর পেছনেই পাকা রাস্তা। মাঠের দক্ষিণ কোনায় একটি ওয়াশব্লক এবং পূর্বদিকে ২০ শতক জমির একটি পুকুর। মাঠে মাটি ভরাট করার সময় প্রথমে একটি জলাশয় তৈরি হয়। জলাশয়টি ২০১১ সালে দখল করেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য উজ্জল ভূঁইয়া। এরপর মাটি কেটে পুকুর তৈরি করে মাছ চাষ করে আসছেন তিনি।

গত রোববার ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, পুকুর পাড় ঘেঁষে রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে হয়। প্রতিদিনকার মতো প্রবেশপথে একটি ট্রাক্টর রাখা। কানায় কানায় ভরা ঘন সবুজ পানি দেখেই বোঝা যায় পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। পানি দেওয়ার জন্য মাঠের কোনায় ওয়াশব্লকের পেছনে বসানো আছে একটি পাম্প। পুকুরের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎসংযোগ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করার কারণে পাড় ভেঙে মাঠ ক্রমশ ছোট হলেও বাড়ছে পুকুরটির আকার।
বিদ্যালয় অফিসে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য উজ্জল ভূঁইয়া শিক্ষকদের কিছু না জানিয়ে ২০১১ সাল থেকে পুকুরটি দখল নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। বারবার নিষেধ করার পরও কর্ণপাত করছেন না। ছোট মাঠসংলগ্ন পুকুর থাকায় যে কোনো সময় শিশুরা পানিতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তা ছাড়া অসাবধানতায় পাম্পের বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়েও দুর্ঘটনার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী বদর উদ্দিন জানান, মৎস্যচাষি উজ্জল তাঁর ভাই। রাতে বিদ্যালয়ে থেকে তিনি পুকুরটিও দেখভাল করতে পারেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে উজ্জল ভূঁইয়ার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে জয় জানান, তাদের পরিবারের জমিতেই বিদ্যালয়টি স্থাপিত। পুকুরটি পতিত থাকে বলে সেখানে মাছের চাষ করছেন তারা। মাঝে মধ্যে শিক্ষকদেরও কিছু মাছ দেওয়া হয়। সেচের মোটরটি দূরে বসানো, সেখানে শিক্ষার্থীদের যাওয়ার কথা নয়।
প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী ভূঁইয়ার ভাষ্য, ২০১৮ এখানে যোগদান করে তিনি জানতে পারেন ২০১১ সাল থেকে পুকুরটি দখল হয়ে আছে। পাড় ভেঙে মাঠের আকার কমছে, তাই শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না। পুকুরটি দখলমুক্ত হলে সেটি ভরাট করতে পারলে একটি মাঠ হতো, শিক্ষার্থীদের পানিতে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা দূর হতো। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছা বেগম জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তা ছাড়া দখলদারদের উচ্ছেদ করা উপজেলা প্রশাসনের কাজ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইউএনও  বরাবর আবেদন করতে বলবেন প্রধান শিক্ষককে।
ইউএনও ফাতেমা জান্নাত বলেন, প্রধান শিক্ষক আবেদন করলে সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোখ করে মাঠটি দখলমুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×