ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

গতি বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের

গতি বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের
×

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

গত ২০০৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাত্র চারটি ‘কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন’ ছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। পরবর্তী চার বছরে আরও ১৪টি ক্রেন যুক্ত হয়েছে বহরে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ও এনসিটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিপূর্ণ হয়েছিল কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে। বাকি ছিল পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। সর্বশেষ আনা নতুন চারটি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হয়েছে এই টার্মিনালে। এ নিয়ে বন্দরে অত্যাধুনিক এই যন্ত্রপাতির সংখ্যা দাঁড়াল ২২-এ। এগুলো দিয়ে একযোগে অপারেশনাল কাজ চালালে প্রতি ঘণ্টায় ৩০টি করে মোট ৬৬০ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে চট্টগ্রাম বন্দর। কম সময়ে এত অধিকসংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডেল করতে পারে বলে সক্ষমতা বাড়াতে এটির ব্যবহার বাড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। জাহাজের সাধারণ ক্রেন দিয়ে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২টি কনটেইনার হ্যান্ডেল করা যায়।
চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়ায় বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে গতি আরও বাড়বে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর পাঁচ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারি কোষাগারে ভ্যাট, ট্যাক্স ও এনটিআর বাবদ রেকর্ড এক হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। নতুন গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়ায় এই আয় সামনে আরও বাড়বে। নতুন করে চারটি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়ায় এ বছর আয় এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। তিনি জানান, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ২৯ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬ একক কনটেইনার ওঠানামা করে। ২০২৫ অর্থবছরে এটি  ৩৪ লাখ ছাড়িয়েছে। 

জিসিবি (জেনারেল কার্গো বার্থ) ছাড়া এখন চট্টগ্রাম বন্দরের বাকি তিনটি টার্মিনালেই আছে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন। এসব টার্মিনালে এখন গিয়ারলেস জাহাজকে (ক্রেনবিহীন জাহাজ) নোঙর করানো যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগং কনটেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) কিউ গ্যান্ট্রি  ক্রেন রয়েছে চারটি। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) রয়েছে ১৪টি। নতুন করে চারটি যুক্ত হলো পিসিটিতে। এগুলো এনেছে পিসিটি টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)। তবে ২২টির মধ্যে প্রথম ১৮টি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন এনেছে চট্টগ্রাম বন্দর নিজেরা।

২০১৮ সালে ছয়টি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন আনতে বন্দর কর্তৃপক্ষের খরচ হয় মোট  ৩৪৫ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রতিটির দাম পড়ে গড়ে সাড়ে ৫৭ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে ২৩৮ কোটি ৬১ লাখ টাকায় এসেছে চারটি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন। সেবার গড়ে খরচ হয়েছে ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২২ সালে চারটি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন আনতে খরচ পড়েছে ২৪২ কোটি টাকা। প্রতিটিতে গড় খরচ ৬০ লাখ ৫০ হাজার। কিন্তু এবারে যে চারটি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন এসেছে, সেগুলোর প্রতিটির দাম পড়েছে ৭৫ কোটি টাকা। চারটির মোট দাম পড়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এ হিসাবে বন্দর বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই যন্ত্রের দাম গাণিতিক হারে বেড়েছে প্রতিবছর। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে প্রতিটির দাম বেড়েছে গড়ে সাড়ে ১৭ কোটি টাকা। আট বছর আগের তুলনায় এটি প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। 
৪০ টন ধারণক্ষমতার এসব গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে ১৫ সারি পর্যন্ত পণ্য ওঠানামা করানো যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব নাসির উদ্দিন বলেন, কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব। এ হিসাবে ২২টি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন যদি একসঙ্গে কাজ করে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৬৬০টি কনটেইনার ওঠানামা করা যাবে একযোগে। এটি যেমন দ্রুত কাজ করে, তেমনি নিরাপদও।
চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ও সি কম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট থাকায় এক দশক আগেও চট্টগ্রাম বন্দরে আসা একটি জাহাজকে পণ্য খালাস করতে ১৪ থেকে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হতো। এখন সেটি নেমে এসেছে দুই থেকে তিন দিনে। আধুনিক যন্ত্রপাতি যত বাড়বে এই সময় তত কমবে।  
শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েল বলেন, জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় কমলে জাহাজের ভাড়াও কমবে। ভাড়া কমলে জাহাজ আসার হার বাড়বে। সেটি বাড়লে বাড়বে দেশের রাজস্বও। 

আরও পড়ুন

×