ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

৭ বছরের প্রতিবাদের ফল টিকল না দুই সপ্তাহও

৭ বছরের প্রতিবাদের ফল টিকল না দুই সপ্তাহও
×

সিলেট সদর উপজেলার সাহেব বাজার গ্রামে লোকালয়ে অবস্থিত পোলট্রি খামার সমকাল

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

টানা সাত বছর প্রতিবাদ জানানোর পর অবশেষে সিলেট সদর উপজেলার সাহেবের বাজার এলাকার একটি পোলট্রি খামারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কার্যক্রম বন্ধের বার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু জনস্বার্থে নেওয়া সেই পদক্ষেপ স্থায়ী হয়নি দুই সপ্তাহও। জানা গেছে, খামারের দুর্গন্ধে সংশ্লিষ্ট গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বসবাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয় একটি খামারের কারণে। সাত বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন ও প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলেনি। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠিত খামারটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা করা হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় টলে যায় প্রভাবশালী খামার মালিকের কারণে। তাঁর ক্ষমতার কাছে হার মানে সরকারি নির্দশনা। আবারও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে খামারটিতে। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ এলাকাবাসী।

পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কীভাবে একটি অবৈধ খামার আবারও চালু হলো, সরকারি সিদ্ধান্তকে টলিয়ে দিল একজন খামার ব্যবসায়ী তার উত্তর জানতে চান গ্রামবাসী। সেই সঙ্গে খামারটি স্থায়ীভাবে বন্ধের জোরালো দাবি তোলা হয়েছে। এর আগে একই দাবিতে গত সপ্তাহে এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন কাহের মিয়া নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদরের খাদিম নগর ইউনিয়নের সাহেবের বাজার এলাকার পাঠানগাঁও গ্রামে নাহিশা পোল্ট্রি ফার্ম নামে একটি খামার চালু করেন নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শীর্ষ নেতাদের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে তিনি জনবসতির ভেতরেই খামারটি স্থাপন করেন। ২০১৯ সাল থেকে এলাকার লোকজন ডিসি, ইউএনও, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে খামারটি বন্ধের আবেদন জানিয়ে আসছেন।
গত বছর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তদন্ত করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। উল্টো বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদী গ্রামবাসীদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেন খামার মালিক।

সর্বশেষ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে গত ৭ মে খামারে অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট। অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তারের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে খামারটির কোনো বৈধ ছাড়পত্র না থাকায় এবং পরিবেশ দূষণের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা করা হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই খামার মালিক আবারও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা করেন।
জানা গেছে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সরাসরি নির্দেশেই বিদ্যুৎ বিভাগ খামারটিতে পুনরায় সংযোগ দিয়েছে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এই সিদ্ধান্ত কতটা বৈধ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ছয় নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মইন উদ্দিন বলেন, খামারটি বন্ধের জন্য গত সাত বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, খামারটির কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। কিছুদিন আগে তারা অভিযান চালিয়ে সেটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কীভাবে তারা বিদ্যুতের সংযোগ নিয়েছে তা তাদের জানা নেই। 

আরও পড়ুন

×