বোর্ডের নিয়ম উপেক্ষা করে অধ্যক্ষের অর্থলুট
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রানীরহাট স্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বাবদ মাথাপিছু ৬০০ টাকা আদায়ের পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৮১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
বোর্ড নির্ধারিত ফরম পূরণের ফি এক হাজার ৮৮৫ টাকা হলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুহুল আমিন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গড়ে তিন হাজার ৫০০ টাকা করে আদায় করেছেন। এর মাধ্যমে ফরম পূরণ বাবদ সরকারি ফির বাইরে তিনি প্রায় ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। বর্তমানে প্রবেশপত্র দেওয়ার নামে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে আরও ৬০০ টাকা করে মোট দুই লাখ ২৮ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি। এর আগে এসএসসি (ভোকেশনাল) শাখার ২৮৫ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে ৫০০ টাকা করে মোট এক লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গণ্ডগ্রাম এলাকার ক্ষুব্ধ অভিভাবক শাকিলা আক্তার জানান, তাঁর ছোট বোনের ফরম পূরণে বোর্ড ফির চেয়ে প্রায় দেড় হাজার টাকা বেশি নিয়েছেন অধ্যক্ষ। এখন আবার প্রবেশপত্রের জন্য ৬০০ টাকা নিলেন। এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্যও ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। এই পুরো টাকাই অধ্যক্ষ আত্মসাৎ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও অধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই নগদ টাকা দুই কর্মদিবসের বেশি হাতে রাখার নিয়ম নেই। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুহুল আমিন এখনও যৌথ ব্যাংক হিসাব না খুলে বিভিন্ন খাতের সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ নিজের ব্যক্তিগত হিসাবে জমা রেখে তছরুপ করছেন।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, কোনোভাবেই অধ্যক্ষ নগদ টাকা নিজের কাছে বা একক হিসাবে রাখতে পারেন না।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন দাবি করেন, প্রবেশপত্র বাবদ সংগৃহীত টাকা কলেজের কাজেই ব্যয় করা হবে। ফরম পূরণে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে তাঁর অদ্ভুত যুক্তি, ‘অনেক শিক্ষার্থী কম টাকা দেয়, তাই অন্যদের কাছ থেকে একটু বেশি নিয়ে তা সমন্বয় করতে হয়।’
- বিষয় :
- অর্থপাচার