ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রাবি আবাসিক হলে স্বচ্ছ সিট বণ্টনের দাবি ছাত্রশিবিরের

রাবি আবাসিক হলে স্বচ্ছ সিট  বণ্টনের দাবি ছাত্রশিবিরের
×

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে গতকাল সোমবার আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সিট দখলচেষ্টার অভিযোগ এনে মানববন্ধন করে ছাত্রশিবির সমকাল

 রাবি সংবাদদাতা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদল সিট দখলের চেষ্টা করছে এবং হল প্রশাসন এ কাজে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। তবে অভিযোগটি ভিত্তিহীন দাবি করে ছাত্রদল বলেছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব অভিযোগ করেন শাখা ছাত্রশিবিরের নেতারা। একই সঙ্গে আবাসিক হলের সিট বণ্টন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি জানান তারা।

শিবিরের দাবিগুলো হলো- অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারীদের সিট বাতিল করে হল প্রশাসনের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে শূন্য আসন দখলমুক্ত করা, শূন্য আসনের সংখ্যা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ওয়েটিং লিস্ট অনুযায়ী সিট বরাদ্দ দেওয়া, পাশাপাশি সিট বণ্টন প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা।
মানববন্ধনে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ‘প্রভোস্ট ও ছাত্রদলের যৌথ প্রযোজনার সিট দখল রুখে দাও’, ‘দলীয় বিবেচনায় সিট বণ্টন বন্ধ করো’, ‘আদু ভাইয়েরা হল ছাড়বে কবে ?’–এমন বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘ছাত্রদল আবাসিক হলগুলো দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাঁদাবাজির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রভোস্টদের সহযোগিতা রয়েছে।’ 
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক নেতার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ হলেও তাদের হলের সিট বহাল রাখা হয়েছে। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সিট বাতিল করা হচ্ছে।
মুজাহিদ ফয়সালের দাবি, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দলীয় বিবেচনায় হলে রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া হল প্রভোস্টদের জন্য সংরক্ষিত ৩ শতাংশ দারিদ্র্য কোটার আসনও সাধারণ শিক্ষার্থীরা না পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পাচ্ছেন।

শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজিব বলেন, ‘অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারীদের দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে। একই সঙ্গে শূন্য আসনের তথ্য ও ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ করে সিট বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’ 
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোনো অবৈধ সিট দখলের সঙ্গে জড়িত নই। ১৭টি হলে জামায়াতি প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছেন। এখন পাকিস্তানপন্থি একটি সংগঠন মিথ্যা তথ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের রাজনীতির সহাবস্থান নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সিট বণ্টনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। কিছু কক্ষ ফাঁকা থাকায় দু-একজন থাকতে পারে। তবে অভিযোগ পেয়ে তাদের কক্ষ ত্যাগের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, সম্প্রতি বৈধ আবাসিক কার্ড ছাড়াই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে ছাত্রদলের তিন কর্মী অবস্থান করছেন– এমন অভিযোগ ওঠে। তবে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির তথ্য-প্রমাণ ছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে ছাত্রদল।

আরও পড়ুন

×