মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ, তিন দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৮:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফরিদপুরের সদরপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর ৮ বছর বয়সী এক শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরবর্তী একটি কাশবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা এ ঘটনায় সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
নিহত শিশুর নাম শাহাদাত হোসেন। সে সদরপুরের চর নাছিরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া পুরাতন ঘাট এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। শিশুটি স্থানীয় হাওলাদার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে সবার ছোট।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার চন্দ্রপাড়া দরবারসংলগ্ন ট্রলারঘাটে মহররম উপলক্ষে মেলা বসে। সেই মেলায় ঘুরতে গিয়ে শিশু শাহাদাত নিখোঁজ হয়। এর পর বিভিন্ন স্থানে মাইকিংসহ ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে মেলায় থাকা একটি দোকানের কর্মচারী ইয়াসিন (১৮), নিহত শাহাদাত হোসেনের বোন রওশন আরাকে ফোন করে মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা কাশবনে গিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। এর পর থেকে ইয়াসিন পলাতক রয়েছেন।
ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয় লোকজন মেলার ওই দোকানের মালিকসহ কয়েকজন কর্মচারীকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তারা হলেন– শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মদন তালুকদার কান্দি গ্রামের মৃত আয়েত আলী বেপারীর ছেলে দেলোয়ার বেপারী, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের সাহেব মোল্যার ছেলে তামিম মোল্যা, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মো. আশরাফুলের ছেলে রিয়াজ, হাটগোপালপুর এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে জিহাদ মাহমুদ এবং খোদাবাকরি গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে শাকিল ইসলাম।
শিশুটির চাচা আলাল শেখ বলেন, ‘শাহাদাত হোসেন কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছিল। সে মাঝে মধ্যেই এদিক-সেদিক চলে যেত। আশুরার দিন চন্দ্রপাড়া ঘাটে যে গ্রামীণ মেলা বসেছিল, সেখানে সে গিয়েছিল তা আমি লোক মারফত জানতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, শাহাদাত নিখোঁজ হওয়ার পর এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। থানায় ফোনে জানানোও হয়েছিল। তিনি খুনিদের তথ্যসহ হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজোয়ান দীপু ও সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
- বিষয় :
- মরদেহ উদ্ধার
