কুড়িগ্রাম
সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ
বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করছে। ছবি: সমকাল
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪৮
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে প্রবেশের একমাত্র সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। বুধবার সকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
বুধবার ভোরে বালুবাহী একটি ড্রাম ট্রাক সেতুর ভাঙা পাটাতনে আটকে পড়লে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর সেতুর দুই প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে স্টিলের পাটাতন ভেঙে গেছে এবং লোহার প্লেট খুলে গেছে। এরপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করছে।
জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু নির্মাণ করা হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেতুর একটি অংশ ধ্বংস করা হয়। পরে স্বাধীনতার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে সেতুটি সংস্কার করে ভূরুঙ্গামারীর দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়ন এবং কচাকাটা ও মাদারগঞ্জ এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ চালু করা হয়।
নির্মাণের সময় সেতুটির আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ১০০ বছর। সেই হিসাবে প্রায় চার দশক আগেই এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি সেতুটি অচল হয়ে পড়লে সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পাশেই দুধকুমার নদের দক্ষিণাংশে ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এতে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়ছে। তারা দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, 'পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় পুরো সেতু থরথর করে কেঁপে ওঠে। সেতুটি এতটাই সরু যে, একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে প্রায়ই দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।'
আরেক ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'প্রায়ই সেতুর পাটাতন ভেঙে যায়। পরে সওজ বিভাগ মেরামত করলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এ কারণে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হলে স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সেতুটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হলেই যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
- বিষয় :
- কুড়িগ্রাম
