ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিএম কলেজে দুই পক্ষের বিরোধে ছাত্রদলে অস্থিরতা

বিএম কলেজে দুই পক্ষের বিরোধে ছাত্রদলে অস্থিরতা
×

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধে এক সপ্তাহের মতো বরিশালে অস্থিরতা চলছে। এ জন্য পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্রদল ও মহানগর ছাত্রদলের নেতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহানগর বিএনপি নেতারা সমঝোতার চেষ্টা করেও দুই পক্ষকে শান্ত করতে পারেননি। 

সর্বশেষ গত সোমবার রাতে বিএম কলেজের অদূরে নতুনবাজারের দুটি হোটেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য কলেজ ছাত্রদলের নেতাদের দায়ী করেন ভুক্তভোগীরা। গতকাল বুধবার বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনাকে মিথ্যা দাবি করেন কলেজ ছাত্রদলের একাংশের নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, তারাই হামলার শিকার হয়েছেন।
কলেজ শাখা সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত সোমবার দুপুরে বিএম কলেজের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বি আব্দুল্লাহর ওপর নতুনবাজার এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত হামলা করে। এ বিষয়ে অভিযোগ দিতে সন্ধ্যায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় রওনা হন। পথে নতুনবাজার এলাকায় তাদের ওপর আবারও হামলা হয়।
এ দিকে গত সোমবার রাতে নতুনবাজারে এক নারীর দোকান ভাঙচুর, দুই নারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠে ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভে কয়েকজন নারী বলেন, তাদের ক্যাশবাক্স থেকে টাকাও লুট করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার শুরু গত ২২ জুন। ওই দিন থেকে ছাত্রদলের দুপক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। সন্ধ্যায় কলেজের ছাত্রাবাসে তুচ্ছ ঘটনায় হামলা হয়। এতে বিএম কলেজ ছাত্রদল ও মহানগর ছাত্রদলের কয়েক নেতা জড়িয়ে পড়েন। হামলার প্রতিবাদে সাধারণ ছাত্ররা ক্যাম্পাস-সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন তাদের মারধর করেন মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম। এ ঘটনার প্রতিবাদে টানা তিন দিন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সস্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন।
এ প্রসঙ্গে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ওয়ালিদ বলেন, তিনি না জেনে মহানগর সভাপতির বিরুদ্ধে করা মানববন্ধন ও বিক্ষোভে গিয়েছিলেন। বিরোধ মেটাতে মহানগর বিএনপির উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার সঙ্গে আরও ১০ জন আছেন। সবার সঙ্গে বসা হয়নি, তাই মীমাংসাও হয়নি।’

মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, ‘নতুনবাজারে মোটরসাইকেল বহরে কারা ছিলেন তা সিসি ক্যামেরা দেখে চিহ্নিত করা যাবে।’ 
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বানে বিএম কলেজ ছাত্রদল ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে বসে ভুল বোঝাবুঝির অবসান করার চেষ্টা করেছি। আবারও যদি এ নিয়ে অস্থিরতা দেখা দেয়, তাহলে কারা দায়ী তা সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখা হবে।’
 

আরও পড়ুন

×