কাজ শেষের আগেই সেতুর উইং ওয়ালে ফাটল
সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর ও রামনগর গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের নির্মাণাধীন সেতুর ফাটল ধরা উইং ওয়াল। ছবি গত রোববার তোলা সমকাল
পটুয়াখালী ও বাউফল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
পটুয়াখালীর বাউফলে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই সোয়া কোটি টাকা খরচে নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর উইং ওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর ও রামনগর গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের সেতুটিতে গত শনিবার দুপুরে ফাটলটি ধরা পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটির নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঠিকাদারের যোগসাজশে বালু, পাথর ও রডসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে দক্ষিণ ও উত্তর পাশের রিটার্নিং ওয়ালে ফাটল দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ সড়কে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ওই সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে এক কোটি ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা ৮৯ পয়সা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুকাইয়া এন্টারপ্রাইজকে ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয়। দরপত্রের শিডিউল অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বর্ধিত সময় শেষ হয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৮০ ভাগ। বিপরীতে বিল তোলা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা। এরই মধ্যে সেতুর উইং ওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবাহান মিয়া বলেন, শিডিউল অনুযায়ী গার্ডার রাখার ভিম ও তলদেশে স্টিল সার্টার ব্যবহার করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাঠ ব্যবহার করে ঢালাই দেয়। পাথর ও বালুর কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় গর্ডার সেতুটির স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে কাজ শেষ হওয়ার আগেই উইং ওয়ালে ফাটল দেখা দেয়।
এলজিইডির অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী আজিজুর রহমানের বাড়িও একই এলাকায়। তিনি বলেন, স্ল্যাব, ভিম, উইং ওয়ালে উন্নতমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। এ কারণে সেতুটির উইং ওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করেন তিনি।
রুকাইয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, কাজটি শিডিউল অনুযায়ী করা হয়েছে। কিন্তু প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় রিটার্নিং ওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। তবে সমস্যা নেই, এটি ভেঙে নতুন করে ফের উইং ওয়াল করা হচ্ছে।
বাউফলের সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল মোর্শেদ মুরাদ
বলেন, ‘শিডিউল অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উইং ওয়ালে ফাটল ধরেছে তা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।’
সম্প্রতি এখানে যোগ দেওয়া পিআইও মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। ঘটনাস্থলে সরেজমিন গিয়ে বিষয়টি দেখব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ও শিডিউল বহির্ভূত কাজ করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- সেতু