ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

খাসজমিতে মাথা তুলছে নেতার ভবন

খাসজমিতে মাথা তুলছে নেতার ভবন
×

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে নির্মাণাধীন বিএনপি নেতার বহুতল স্থাপনা। ছবিটি শুক্রবার তোলা সমকাল

কামাল উদ্দিন, কুমিল্লা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশাসনের বাধা অমান্য করে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা দামের খাসজমিতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন বিএনপি নেতা আবুল হাশেম। ইতোমধ্যে ভবনটির তৃতীয় তলার ছাদের ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। দশ তলার ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে ১০ শতাংশ জমিতে ফাউন্ডেশন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসন স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিলেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আবুল হাশেম প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

দাউদকান্দির গৌরীপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর বাজারে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবনটি। সরেজমিনে গত শুক্রবার দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ৫০০-৬০০ মিটার উত্তরে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পাশেই গৌরীপুর বাজারে ভবনের কাজ চলছে। এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যমতে, স্থাপনাটি নির্মাণ করছেন গৌরীপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাশেম। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও আছেন।

আবুল কাশেম প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কোনো ব্যক্তিই স্বনামে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, বহু বছর ধরে খাসজমিটি নজরে ছিল বিএনপি নেতা আবুল হাশেমের। কৌশলে তিনি নিকটাত্মীয় মাসুদ আলমের নামে বন্দোবস্ত নেন। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে গৌরীপুর-পেন্নাই এলাকার সচ্ছল বাসিন্দা মাসুদ আলমকে ভূমিহীন দেখিয়ে ১০ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত নেওয়া হয়। সেখানে অস্থায়ী টিনের ঘর নির্মাণ করে বসবাসের জন্য তাঁকে বন্দোবস্ত দেয় প্রশাসন। কিন্তু জমিটিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা বা দখলে নেননি মাসুদ। তিনি একপর্যায়ে অবৈধভাবে গোপনে বিএনপি নেতা আবুল হাশেমের নামে হস্তান্তর করেন। সম্প্রতি ভবন তৈরির কাজ শুরু হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। 

স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ওই জমিতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন আবুল হাশেম। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসনের নজরে পড়ে। সেখান থেকে নির্দেশনা আসার পরই উপজেলা ভূমি প্রশাসন মামলার সিদ্ধান্ত নেয়। 
বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বলেন, ‘মাসুদ আলম আমার চাচাতো ভাই। খাসজমি তাঁর নামে বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে জায়গাটি আমার নামে রেজিস্ট্রি ও পরে রেকর্ড করে নিয়েছি। সেখানে এখন আমি একটা ভবন নির্মাণ করছি।’ 
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, কারও ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না। ঘটনা ঠিক হয়ে থাকলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। 
দাউদকান্দির এসিল্যান্ড রেদওয়ানুল ইসলামের ভাষ্য, ওই ব্যক্তি সরকারি খাসজমি নিজের নামে বিএস রেকর্ড ও রেজিস্ট্রি করে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। এখানে তথ্য গোপন করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতা পাওয়ায় গত ২ জুলাই মামলা করতে গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) বরাবর কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। 
ইউএনও নাছরীন আক্তার গতকাল বলেন, ‘সরকারি খাসজমি নিজের নামে স্থানান্তর, রেজিস্ট্রি ও রেকর্ড করে নেওয়ার সকল প্রক্রিয়া বেআইনিভাবে করা হয়েছে। ভবন তৈরি করার জায়গাটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। আমরা একাধিকবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। তবুও কাজ অনেক হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সরকারি বিধি অনুসারে আদালতে মামলা করা হচ্ছে।’  গতকাল বিকেলে একই রকম মন্তব্য করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মশিউজ্জামান। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে খাস জায়গায় ভবন নির্মাণ করছেন। 

আরও পড়ুন

×