ছুটির পর কাজে ফিরেই ফের অসুস্থ ৭৭ শ্রমিক
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
৭০ জন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর একদিনের জন্য কারখানা বন্ধ রেখেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গাজীপুরের শ্রীপুরে ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ পোশাক কারখানায় গতকাল বুধবার কাজে ফিরে আবারও একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন অন্তত ৭৭ জন শ্রমিক। মাথা ঘোরা, বমি, পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমটি গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অধিকাংশ শ্রমিকের মধ্যে ‘প্যানিক অ্যাটাক’ বা মাস সাইকোজেনিক ইফেক্টের লক্ষণ দেখা গেছে।
শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি গ্রামে গড়ে ওঠা এ কারখানায় গত মঙ্গলবার একযোগে অন্তত ৭০ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ ওইদিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। গতকাল সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের ভাষ্য, গত ২৪ জুন রাতে কারখানার পঞ্চম তলায় কর্মরত অবস্থায় লিজা বেগম নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর পর থেকেই তাদের মধ্যে এক ধরনের ভয় ও মানসিক চাপ কাজ করছে। তাঁর মৃত্যুর পরদিন শ্রমিকদের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ ও আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ওই কারখনায় দুই হাজার ৩০০ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
শ্রমিকরা জানান, গতকাল সকালে কাজ শুরুর কিছু সময় পর কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ বোধ করেন। এরপর দ্রুত একই উপসর্গ অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুরো কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অসুস্থদের দ্রুত মাওনার আল হেরা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আল হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মুসা আলিমউল্যা বলেন, বুধবার ওই কারখানার ৭৭ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের সবার চিকিৎসা চলছে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, এটি শারীরিক অসুস্থতার চেয়ে মানসিক চাপের বহিঃপ্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। একাধিক শ্রমিক একই পরিবেশে আতঙ্কিত হয়ে পড়লে অন্যদের মধ্যেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যাকে গণ-মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া বা প্যানিক অ্যাটাকের সম্মিলিত প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এটাকে মাস সাইকোজেনিক ইফেক্টও বলা হয়। তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শ্রীপুরের ইউএনও নাহিদ ভূঁইয়াকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, কী কারণে পরপর দুই দিন একই কারখানায় এত শ্রমিক অসুস্থ হলেন সেটা তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা দরকার। প্রতিটি কারখানায় কাজ করার মতো চমৎকার পরিবেশ তৈরি করা উচিত। কারখানার ব্যবস্থাপক সঞ্জীব কুমার বলেন, আমরা ধারণা করছি এটি ‘জীনের’ আছর হতে পারে। এ কারণে সকাল থেকেই কারখানায় কয়েকজন ইমাম এনে দোয়া দরুদ ও কোরআন তেলাওয়াত করানো হচ্ছে।
- বিষয় :
- শ্রমিক