চট্টগ্রামে চাঁদা দাবি ও হামলা: গ্রেপ্তার ৮ জনের মধ্যে নেই ডেভিড ইমন
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২৩ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২৮
চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চকবাজার থানা পুলিশ ও র্যাব-৭ নগরীর বিভিন্ন স্থানে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
বুধবার দুপুরে নগরীর দামপাড়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ। তবে আলোচিত এই ঘটনার ‘মূলহোতা’ ডেভিড ইমনসহ অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ডেভিড ইমন বর্তমানে দেশে, নাকি বিদেশে অবস্থান করছেন—এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পুলিশের কাছে নেই।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির ওরফে কেহেরমান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. নয়ন এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনার দুদিন পর, অর্থাৎ গত সোমবার দুপুরে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়।
হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগটি নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে ওই দিনই দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফয়সল আহম্মেদ বলেন, আমরা ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এ জন্য আমাদের গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ডেভিড ইমনসহ এই চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি, মনিরের বিরুদ্ধে ৭টি, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধে ৬টি করে এবং ইউনুসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, মানবপাচার, চোরাচালান, ডাকাতি, চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারা রয়েছে।