ফেনীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের ঘোরাঘুরি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ম্যাপ
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ২১:১৪ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ২১:২৬
ফেনীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা দেওয়া এবং অকারণে ঘোরাঘুরি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনাটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসনের এ নির্দেশনা কার্যকর করতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জনসচেতনতা বাড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুদিন মাইকিংও করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নির্দেশনা মানতে এবং অপ্রয়োজনীয় আড্ডা এড়িয়ে চলতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য আড্ডা নয়, বরং শিক্ষাই হোক প্রধান অগ্রাধিকার।
গত ১২ জুলাই জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কিশোর গ্যাং অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে– এ বিষয়ে আলোচনা হলে সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে শহরে মাইকিং করা হয়। সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা দেওয়া এবং অকারণে ঘোরাঘুরি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন ফেনী বলে মাইকিং প্রচারণা করা হয়।
আজ শনিবার ও শুক্রবার ফেনী জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বলা হয়, সন্ধ্যার পর কোনো ছাত্রছাত্রীকে অকারণে বাইরে ঘোরাঘুরি, চা-দোকানে আড্ডা দেওয়া, স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করা ইত্যাদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলো। কাউকে অকারণে এসব স্থানে পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফেনী জেলা তথ্য কর্মকর্তা এস এম আল আমিন বলেন, শনিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশোধন করে মাইকিং করতে বলা হয়েছে।
ফেনী টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি জহিরুল হক মিলু বলেন, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৩ নম্বর ধারায় প্রত্যেক ব্যক্তির অবাধ চলাফেরার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সান্ধ্য আইন সরাসরি এই অধিকার কেড়ে নেয়। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে নিষেধাজ্ঞা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় বড় ধরনের হস্তক্ষেপ বলে মনে করি।
বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান মিস্টার বলেন, ফেনী জেলা প্রশাসনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার অসহাত্বের প্রকাশ এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। এই সিদ্ধান্তে সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ফেনী জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাং ও অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর অযথা বাইরে থাকা উচিত নয়। তবে শুধু সন্ধ্যার পর নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালেও শিক্ষার্থীরা বাইরে আড্ডা দিচ্ছে কিনা, তা জেলা প্রশাসনের নজরদারিতে থাকা দরকার। তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অবশ্যই যথাযথ যাচাই-বাছাই করতে হবে।
ফেনী জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিলে না থেকে বাইরে থাকা ঠিক নয়। তবে এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে পাওয়া গেলে আগে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করা উচিত। সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে কাউন্সেলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, কিশোর গ্যাং অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়া এবং অকারণে ঘোরাঘুরি করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির জন্য জেলা তথ্য অফিসকে মাইকিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মাইকিংয়ের ভাষায় কিছুটা অতিরঞ্জন হয়েছে এবং এটি আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘোষণার উদ্দেশ্যে ছিল না। মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর চায়ের দোকান, পার্ক বা অন্যান্য স্থানে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া এবং অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো।
- বিষয় :
- ফেনী