ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

চ্যাম্পিয়ন থেকে গ্রুপ পর্ব, বিশ্বকাপে কোন দল কত টাকা পাবে

চ্যাম্পিয়ন থেকে গ্রুপ পর্ব, বিশ্বকাপে কোন দল কত টাকা পাবে
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ২২:৪০

২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু অংশগ্রহণকারী দল ও ম্যাচসংখ্যার দিক থেকেই নয়, প্রাইজমানির দিক থেকেও ইতিহাস গড়েছে। ৪৮ দলের এই আসরের জন্য রেকর্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ফিফা। যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকেই ন্যূনতম ১ কোটি ৫ লাখ ডলার পাচ্ছে। এর মধ্যে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ৯০ লাখ ডলার, পাশাপাশি প্রস্তুতি খরচ বাবদ আরও ১৫ লাখ ডলার। 

ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিজয়ী দল পাবে ৫ কোটি ডলার। রানার্সআপ দলের জন্য থাকছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের বিজয়ী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড পাচ্ছে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে। শেষ ষোলোর আটটি দল পাচ্ছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে, আর শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দল পেয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে।

প্রাইজমানির অর্থ সরাসরি খেলোয়াড়দের হাতে যায় না। ফিফা অর্থ দেয় সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশনকে। পরে তারা সিদ্ধান্ত নেয় কতটা খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের বোনাস হিসেবে দেওয়া হবে এবং কতটা দেশের ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

উদাহরণ হিসেবে, শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাচ্ছে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের চুক্তি অনুযায়ী, এই অর্থের ৮০ শতাংশ নারী ও পুরুষ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। তবে এর জন্য আগামী বছরের নারী বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে ম্যাচপ্রতি দুই হাজার ৬৯০ ডলার করে পেলেও সেই অর্থ তারা দাতব্য সংস্থায় দান করেন।

ফিফার ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের আর্থিক চক্রে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এর প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় করা হচ্ছে বিশ্বকাপের প্রাইজমানি হিসেবে। আগের চার বছরের আর্থিক চক্রে ফিফার মোট আয় ছিল ৭৬০ কোটি ডলার।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এবার সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ডলার, অর্থাৎ ৮০ লাখ ডলার বেশি। রানার্সআপ দল আগের আসরের তুলনায় ৩০ লাখ ডলার বেশি পাচ্ছে। তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া দলগুলোর প্রাইজমানিও বেড়েছে ২০ লাখ ডলার করে। ফিফা প্রথম বিশ্বকাপের প্রাইজমানির তথ্য প্রকাশ করে ১৯৮২ সালে। সেবার চ্যাম্পিয়ন ইতালি পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার। ৪৪ বছরের ব্যবধানে সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ডলার, প্রায় ২০ গুণ বৃদ্ধি।

ট্রফির সঙ্গে বিশ্বকাপজয়ী দলের ২৬ জন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের প্রত্যেকে একটি করে স্বর্ণপদক পান। রানার্সআপ দলের সদস্যরা পান রৌপ্যপদক এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পায় ব্রোঞ্জপদক। 

১৯৭৮ সালের আগে শুধু ফাইনালের একাদশে থাকা খেলোয়াড়দের পদক দেওয়া হতো। পরে ২০০৭ সালে ফিফা সিদ্ধান্ত নেয়, ১৯৭৪ সাল বা তার আগের বিশ্বকাপগুলোতে স্কোয়াডে থেকেও ফাইনাল না খেলা খেলোয়াড়দেরও সম্মানসূচক পদক দেওয়া হবে। ফাইনালের ম্যাচ কর্মকর্তারাও বিশেষ পদক পান।

প্রতি বিশ্বকাপেই টুর্নামেন্টসেরা ফুটবলার পান গোল্ডেন বল, সর্বোচ্চ গোলদাতা জেতেন গোল্ডেন বুট এবং সেরা গোলরক্ষক পান গোল্ডেন গ্লাভস। তবে এসব ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে কোনো অর্থ পুরস্কার নেই। এগুলো শুধুই সম্মান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি।

এবার গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমান ৮ গোল নিয়ে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। শেষ পর্যন্ত কে এই পুরস্কার জিতবেন, সেটি নির্ধারণ হবে ফাইনালের পর।

আরও পড়ুন

×