৩শ ফুটের বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল
ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হচ্ছেন দুই নারী -সমকাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মোড়াকরি ইউনিয়নের ফরদাবাদ গ্রামে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা প্রায় ৩শ ফুট দীর্ঘ একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো। এতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হন গ্রামবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফরদাবাদ পাড়ার বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। বিকল্প না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ সাঁকো ব্যবহার করছেন। বর্তমানে সাঁকোটি নড়বড়ে ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা দশরত দাশ জানান, বছরের পর বছর ধরে গ্রামের মানুষ এ পথ দিয়েই চলাচল করছেন। প্রতিবছর বর্ষাকালে পানিতে তলিয়ে যায়। তখন বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। এতে শিশু-কিশোরদের ঝুঁকি নিয়েই স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা স্থায়ী সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন হয় না।
আরেক বাসিন্দা অধীর দাশ বলেন, জন্মের পর থেকেই তারা যাতায়াতে সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও নিচু এলাকা হওয়ায় বছরের বিভিন্ন সময় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করতে হয়। তিনি বলেন, নির্বাচন এলেই শুধু প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়, কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ নেন না। শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সুশীল দাস বলেন, সেতু না থাকায় গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়া, মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন বা সৎকার এবং শিশুদের স্কুলে পাঠানো, সব ক্ষেত্রেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এমনকি গ্রামের এ বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখে অনেক সময় বিয়ের সম্বন্ধও ভেঙে যায়। তিনি দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
মোড়াকরি ইউপি চেয়ারম্যান ফয়সাল মোল্লা বলেন, ফরদাবাদ গ্রামে সেতুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত প্রদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
- বিষয় :
- সাঁকো