ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানবপাচার রোধে টেকনাফ-উখিয়ার সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব  

মানবপাচার রোধে টেকনাফ-উখিয়ার সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব  
×

রোববার টেকনাফের সেন্ট্রাল রিসোর্টের সম্মেলন কক্ষে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধবিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি-সমকাল

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৪৩ | আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ২০:১২

কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে অবৈধ মানবপাচার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। সংঘবদ্ধ এই অপরাধচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা এবং উপকূলের মানুষকে সচেতন করতে স্থানীয় সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী ভূমিকা রাখতে হবে বলে মত দিয়েছেন টেকনাফ ও উখিয়ার সাংবাদিকরা। 

রোববার টেকনাফের সেন্ট্রাল রিসোর্টের সম্মেলন কক্ষে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে আয়োজিত মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধবিষয়ক সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মশালায় এ অভিমত উঠে আসে। এতে টেকনাফ ও উখিয়ার ৪২ জন সাংবাদিক অংশ নেন। 

কর্মশালায় অভিবাসনের বর্তমান প্রবণতা, মানবপাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মিত অভিবাসনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান। নিজের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবপাচার ও মাদকের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। 

তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা শুধু তথ্য প্রকাশেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষকে সচেতন করে, ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখে এবং নিরাপদ অভিবাসনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।  

কর্মশালায় পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোমেনা আক্তার মানবপাচারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব তুলে ধরে বলেন, মানবপাচার থেকে রাষ্ট্র কোনোভাবেই লাভবান হয় না। বরং এতে বৈধ রেমিট্যান্স কমে যায়, পাচারকারীদের আর্থিক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং সেই অর্থ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়।

তিনি বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস রানা বলেন, টেকনাফ মানবপাচারের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সমুদ্রপথে মানবপাচারের ঘটনাগুলো স্থানীয় সাংবাদিকদের আরও সাহসিকতার সঙ্গে অনুসন্ধান করে তুলে ধরতে হবে। ভয় পেলে চলবে না, কারণ এই অপরাধের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের শক্তিশালী ভূমিকা অপরিহার্য। 

বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কক্সবাজার সমন্বয়কারী (লিগ্যাল সার্ভিস) বিশ্বজিৎ ভৌমিক কক্সবাজারের মানবপাচারসংক্রান্ত মামলাগুলোর চিত্র তুলে ধরেন। মানবপাচারের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা টেকনাফের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাবের নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে উপস্থিতদের আবেগাপ্লুত করেন। 

 মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান

একই দিন বিকেলে টেকনাফে 'সমুদ্রপথে মানবপাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক পৃথক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোমেনা আক্তার বলেন, মানবপাচার ও মাদকের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের বাহিনীর পাশাপাশি মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। 

উদ্বোধনী বক্তব্যে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম টেকনাফকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের 'রেড জোন' উল্লেখ করে এ অঞ্চলে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র দমনে সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

এ সময় কক্সবাজারের উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল হাসান ও র‍্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানা বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

×