চট্টগ্রামের হাটহাজারী
চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ভবনে ভাঙচুর, গুলি
চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড়-ভাটিয়ারী লিঙ্ক রোডসংলগ্ন আবাসিক এলাকায় ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে অস্ত্রসহ এক ব্যক্তি। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১০:২৬ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৪
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে ভাঙচুর এবং প্রকাশ্যে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে এক দল মুখোশধারী। এ সময় এক শ্রমিককে মারধরে আহত করা হয়। গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের বড় দিঘিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। হাটহাজারী থানার বড় দিঘিরপাড় এলাকায় তাঁর পাইকারি দোকান রয়েছে। সম্প্রতি তিনি চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পূর্ব পাশে ১০ তলা বহুতল ভবনে নির্মাণকাজ শুরু করেন।
ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান, মাস দেড়েক আগে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল আসে এবং বলা হয়, হোয়াটসঅ্যাপে কল যাবে, রিসিভ করবেন। এর পর কল ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সেই সময় বলা হয়, ‘চাঁদা না দিলে ১০০ জন পুলিশের সামনেও গুলি করা হবে।’
তিনি আরও জানান, এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে সিএনজি টেম্পো গাড়িতে মাস্ক পরা আট থেকে ১০ সশস্ত্র ব্যক্তি বাড়ির সামনে এসে নামে। তখন ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনটিতে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। সশস্ত্র ব্যক্তিরা ভবনে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর করতে থাকে। এর পর ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। চার-পাঁচ মিনিট পরই তারা দ্রুত চলে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, শুধু জসিমের নির্মাণাধীন ভবন নয়, বড় দিঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন আট থেকে ১০টি ভবনে ফোন করে চাঁদা নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। স্বাধীনতার পর তাদের এলাকায় এভাবে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় বিএনপির নেতা ও ব্যবসায়ী জসিমের মামাতো ভাই মো. নাসির বলেন, কিছুদিন আগে কে বা কারা ফোন করে টাকা চেয়েছে এবং আজ সকালে এসে ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা শুনে অবাক হচ্ছি। আমি এই ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
জানতে চাইলে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু ভাঙচুর এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ার কথা শুনেছি। সেখানে আমরা সিসি ক্যামেরা দেখছি। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেছি।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে র্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। এ সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়।
সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এই চাঁদা দাবি করেছেন বলে মামলায় বলা হয়। পর ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মোবাইল ফোনের এক প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তারা ছুরি ও কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না। তাদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।